banner

The New Stuff

Untitled-1
349 Views

ইসলাম প্রতিমার বিরুদ্ধে, ভাস্কর্য ও মূর্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি দালীলিক পর্যালোচনা


নাজমুল মুহম্মদ হুদা – 

সুওয়াল:

সম্প্রতি বিডিনিউজ ২৪ ডটকম ব্লগে মূর্তি বিড়ম্বনার ইসলামী আঙ্গিক শিরোনামে হাসান মাহমুদ নামে মুসলমান নামধারী এক মুনাফিক কিছু বাতিল ও মনগড়া দলীল জোগাড় করে মূর্তিকে জায়িয প্রমান করার অপচেষ্টা করেছে। সে লিখেছে, ইসলাম প্রতিমার বিরুদ্ধে, ভাস্কর্য ও মূর্তির বিরুদ্ধে নয়। নাউযুবিল্লাহ!

তার একটা দলীল হলো যে,

উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি মূর্তি ব্যবহার করতেন। আরেকটা দলীল হলো, তখন সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার দেয়ালে ৩৬০টি মূর্তি ও অনেক ছবির সঙ্গে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের ছবিও ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের ছবি বাদে বাকী সব ছবি মুছে ফেলতে নির্দেশ মুবারক দিয়েছিলেন। এছাড়া অনেক দেশ ও অঞ্চলে এমনকি সউদী আরবেও বহু ভাস্কর্য আছে। অর্থাৎ তার মূল বক্তব্য হচ্ছে, যে মূর্তিকে পূজা, আরাধনা, ইবাদত করা হয়, যেটা মানুষকে মুশরিক বানায়; সেটা নিষেধ। কিন্তু যে মূর্তিকে আরাধনা ইবাদত করা হয় না বরং যে মূর্তি সৌন্দর্য বাড়ায়, সুসজ্জিত করে সেটা নিষেধ নয়। এ ব্যাপারে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার যামানায় লোকদের ভাস্কর্য নির্মানের দলীল সে উল্লেখ করেছে।
অতএব, উক্ত ব্যক্তির প্রদত্ব লেখাটি কতটুকু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্মত? দলীলসহ জাওয়াব দিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন করবেন।
জাওয়াব: বিডি নিউজে প্রকাশিত মূর্তি বিড়ম্বনার ইসলামী আঙ্গিক শিরোনামে মুসলমান নামধারী উক্ত কাট্টা মুনাফিকের লেখাটি সম্পূর্ণরূপে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর।
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে মূর্তি বা ভাস্কর্য ও ছবি তৈরি করা, আঁকা সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয ও হারাম। বৈধ বা জায়িয মনে করা কুফরী। অথচ উক্ত মুনাফিক লোকটি মূর্তিকে জায়িয প্রমান করার জন্য চেষ্টা করেছে এবং দলীল হিসেবে এমন কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছে, যা সম্মানিত দ্বীন ইসলামে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রকাশ থাকে যে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত হিদায়েত ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম দিয়ে পাঠিয়েছেন অতীতের সমস্ত দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়ে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত সৃষ্টির জন্য সম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার প্রতি সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত সম্মানিত দ্বীন ইসলামই হচ্ছেন একমাত্র মনোনীত, পরিপূর্ণ, নিয়ামতপূর্ণ ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত দ্বীন এবং উনার হুকুম বা বিধানই ক্বিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যা অপরিবর্তনীয়। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন বা ধর্মের বিধান, নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা মুসলমানের জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয় বা আমলযোগ্য নয়।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يَّبْتَغِ غَيْرَ الْاِسْلَامِ دِيْنًا فَلَنْ يُّقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِى الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخـَاسِرِيْنَ
অর্থ: যে ব্যক্তি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য দ্বীন তালাশ বা গ্রহণ করবে তার থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না বরং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের তথা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৫)
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتٰى رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِّنَ التَّوْرَاةِ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ عليه وسلم هٰذِه نُسْخَةٌ مِّنَ التَّوْرَاةِ فَسَكَتَ فَجَعَلَ يَقْرَأ وَوَجْهُ رَسُوْلِ اللهِ يَتَغَيَّرُ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ ثَكِلَتْكَ الثَّوَاكِلُ مَا تَرٰى مَا بِوَجْهِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلٰى وَجْهِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ غَضَبِ اللهِ وَغَضَبِ رَسُوْلِه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَضِيْنَا بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” وَالَّذِىْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ بِيَدِهِ لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ فَاتَّبَعْتُمُوْهُ وَتَرَكْتُمُوْنِىْ لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيْلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِىْ لَاتَّبَعَنِىْ
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদিন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তাওরাত শরীফ উনার একটি কপি এনে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি তাওরাত শরীফ উনার একটি কপি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুনে চুপ থাকলেন। হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তা পাঠ করতে আরম্ভ করলেন। আর এদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরুর রহমত (চেহারা) মুবারক লাল হতে লাগলো অর্থাৎ অসন্তুষ্টির ভাব ফুটে উঠলো। এ অবস্থা দেখে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনার জন্য আফসুস! আপনি কি দেখছেন না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরুর রহমত (চেহারা) মুবারক কিরূপ আকার ধারণ করছে। তখন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরুর রহমত (চেহারা) মুবারক উনার দিকে তাকালেন এবং অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করে বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি থেকে এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসন্তুষ্টি থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পানাহ চাচ্ছি। আর আমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে রব হিসেবে, সম্মানিত ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট রয়েছি। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যার অধিকারে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে, এখন যদি আপনাদের মাঝে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম (যাঁর উপর তাওরাত শরীফ নাযিল হয়েছে) তিনিও যাহির বা প্রকাশ হতেন আর আপনারা আমাকে ছেড়ে উনার অনুসরণ করতেন তথাপিও আপনারা হিদায়েত থেকে অবশ্যই বিচ্যুত হয়ে যেতেন অর্থাৎ গুমরাহ হয়ে যেতেন। এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যদি এখন হায়াতে থাকতেন আর আমাকে পেতেন তাহলে তিনিও অবশ্যই আমার অনুসরণ করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (দারিমী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ اَتَاهُ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ اِنَّا نَسْمَعُ اَحَادِيْثَ مِنْ يَّهُوْدَ تُعْجِبُنَا اَفَتَرٰى اَنْ نَكْتُبَ بَعْضَهَا فَقَالَ اَمُتَهَوِّكُوْنَ اَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُوْدُ وَالنَّصَارٰى لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَلَوْ كَانَ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ حَيًّا مَا وَسِعَهُ اِلَّا اِتِّبَاعِىْ
অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন? অবশ্যই আমি আপনাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যদি হায়াতে থাকতেন, তাহলে আমাকে অনুসরণ করা উনার জন্য ফরয হতো। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত্ ত্বীবী, তালীকুছ ছবীহ্ ইত্যাদি)
প্রতিভাত হলো, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম আসার পর আর কোন দ্বীন-ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা, আইন-কানুন তা অতীতে সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত হোক অথবা অতীতে, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে মানবরচিত হোক তা মুসলমান উনাদের জন্য কখনো গ্রহণযোগ্য, অনুসরনীয় অনুকরণীয় বা আমলযোগ্য নয়। বরং তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য ও পরিহারযোগ্য। অর্থাৎ তা থেকে মুসলমানদের দূরে থাকা ফরয-ওয়াজিব উনাদের অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উছূল বা দলীলসমূহ ৪ খানা। (এক) পবিত্র কুরআন শরীফ, (দুই) পবিত্র হাদীছ শরীফ, (তিন) পবিত্র ইজমা শরীফ, (চার) পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ।
অর্থাৎ মুসলমান উনাদেরকে কোন কিছু করতে হলে উক্ত ৪ খানা দলীলের ভিত্তিতেই করতে হবে।
অতএব, যে ইতিহাস বা ঐতিহাসিকের বর্ণনা উক্ত সম্মানিত দলীল চুতষ্ঠয়ের মুখালিফ তা মোটেই অনুসরণীয়, অনুকরণীয়, গ্রহণযোগ্য এবং আমলযোগ্য নয়।
আরো উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে প্রসিদ্ধ মতে ৬৬৬৬ আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে এক হাজার আয়াত শরীফ ওয়াদা সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ আদেশ সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ নিষেধ সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ ঘটনা সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ সংবাদপূর্ণ, পাঁচশ আয়াত শরীফ হালাম-হারাম তথা আহকাম সম্পর্কে, একশ আয়াত শরীফ দুআ ও তাসবীহ সংক্রান্ত এবং ছেষট্টি আয়াত শরীফ নাসিখ-মানসূখ সংক্রান্ত। (তাফসীরে কাশশাফ, মারাকিউল ফালাহ, হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলা দুররিল মুখতার)
স্মরণীয় যে, হালাল-হারাম তথা আহকাম সাব্যস্তকারী পাঁচশ আয়াত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ একখানা আয়াত শরীফ হচ্ছেন পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ উনার ৩০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ। উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ
অর্থ: তোমরা মূর্তিসমূহের খারাবী, অপবিত্রতা, নাপাকী, নিষিদ্ধতা বা শাস্তি থেকে বেঁচে থাকো। (তাফসীরে আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস)
অনুরূপ আরো একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَآ أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি, বেদী, ভাগ্য নির্ধারণকারী তীর এসবগুলোই শয়তানের কাজ। অতএব, এগুলো থেকে তোমরা বিরত থাকো। অবশ্যই তোমরা সফলতা লাভ করবে। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯০)
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম এ সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে।
যেমন এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَخْبَرَهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ اِنَّ الَّذِيْنَ يَصْنَعُوْنَ هٰذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ يُقَالُ لَهُمْ اَحْيُوْا مَا خَلَقْتُمْ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা প্রাণীর মূর্তি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যে মূর্তিগুলো তোমরা তৈরী করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান করো।” (বুখারী শরীফ ২য় জি:, ৮৮০ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জি:, ২০১ পৃষ্ঠা)
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلَ قَالَ اللهُ تَعَالٰى وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِىْ
অর্থ: “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি অধিক অত্যাচারী, যে ব্যক্তি আমার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত বা আকৃতি তৈরী করে।” নাউযুবিল্লাহ! (মিশকাত শরীফ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ عَائِشَةَ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ عَنِ النَّبِّىِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَّوْمَ الْقِيٰمَةِ اَلَّذِيْنَ يُضَاهُوْنَ بِخَلْقِ اللهِ
অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত বা আকৃতি তৈরী করবে।” নাউযুবিল্লাহ! (মিশকাত শরীফ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)
عَنْ حَضْرَتْ مُجَاهِدٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُعِثْتُ لِكَسْرِ الْمَزَامِيْرِ وَالْاَصْنَامِ
অর্থ: হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি বাদ্যযন্ত্র ও মূর্তি ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।” (তাফসীরে রুহুল বয়ান)
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ اُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ بَعَثَنِىْ رَحْمَةً لِّلْعَالَـمِيْنَ وَهُدًى لِّلْعَالَـِمْيَن وَاَمَرَنِىْ رَبِّىْ عَزَّ وَجَلَّ بِمَحْقِ الْـمَعَازٍفِ وَالْـمَزَامِيْرِ وَالْاَوْثَانِ وَالصَّلِيْبِ وَاَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ
অর্থ: “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন সমস্ত জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ এবং হিদায়েতস্বরূপ। আর আমাকে আদেশ মুবারক করেছেন বাদ্যযন্ত্র, মূর্তি, ক্রুশ ও জাহিলী কাজসমূহ ধ্বংস করার জন্য।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ حُجَيْفَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ اَبِيْهِ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ اٰكِلَ الرِّبٰى وَمُوْكِلَهُ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ وَالْمُصَوِّرَ
অর্থ: হযরত আবূ হুজাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুদ ভক্ষণকারী ও সুদ প্রদানকারী, উল্কি অঙ্কণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী এবং মূর্তি বা প্রতিকৃতি প্রস্তুতকারীদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) প্রতি লা’নত দিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ ২য় জিলদ পৃষ্ঠা ৮৮১)
অতএব, সম্মানিত দ্বীন ইসলামে মূর্তির ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ছবি আঁকা, তোলা ও রাখা সম্পর্কেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ভয়াবহ পরিণতির কথাও বলা হয়েছে।
যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ اَهْلِ الْعِرَاقِ فَقَالَ اِنِّىْ اُصَوِّرُ هٰذِهِ التَّصَاوِيْرَ فَمَا تَقُوْلُ فِيْهَا فَقَالَ اُدْنُهُ اُدْنُهُ سَمِعْتُ النِّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ صَوَّرَ صُوْرَةً فِى الدُّنْيَا كُلِّفَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ اَنْ يَّنْفُخَ فِيْهَا الرُّوْحَ وَلَيْسَ بِنَافِخٍ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি ইরাক থেকে আসলো এবং বললো, আমি এ রকম প্রাণীর ছবি আঁকি। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন? হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তুমি তা দূরে নিক্ষেপ করো, তুমি তা দূরে নিক্ষেপ করো। কেননা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, তাকে ক্বিয়ামতের দিন ঐ ছবির মধ্যে প্রাণ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হবে। কিন্তু সে তার মধ্যে প্রাণ দিতে পারবে না।” (নাসায়ী শরীফ, কিতাবুয যীনাত বাবুত তাছাওউয়ীর ২য় জিঃ, ৩০০ পৃষ্ঠা)
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُوْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّهَا اِشْتَرَتْ نُمْرَقَةً فِيْهَا تَصَاوِيْرُ فَلَمَّا رَاٰهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ عَلَى الْبَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ فَعَرَفَتْ فِىْ وَجْهِهِ الْكَرَاهِيَّةَ قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَتُوْبُ اِلَى اللهِ وَاِلٰى رَسُوْلِهِ مَا ذَا اَذْنَبْتُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَالُ هٰذِهِ النُّمْرَقَةِ قُلْتُ اِشْتَرَيْتُهَا لَكَ لِتَقْعُدَ عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اَصْحَابَ هٰذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ يُقَالُ لَهُمْ اَحْيُوْا مَا خَلَقْتُمْ وَقَالَ اِنَّ الْبَيْتَ الَّذِىْ فِيْهِ الصُّوْرَةُ لَا تَدْخُلُهُ الْمَلٰئِكَةُ
অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, একবার তিনি একটি আসন খরিদ করলেন। তাতে প্রাণীর অনেকগুলো ছবি ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বাহির থেকে) সেটা দেখে; ঘরে প্রবেশ না করে দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন। আমি উনার চেহারা মুবারকে অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেলাম। হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকট তওবা করছি। বলুন, অসন্তুষ্টির কি কারণ? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই আসনটি কেন? আমি বললাম, আপনার বসার এবং বিছানা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমি এটা খরিদ করেছি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই সমস্ত ছবি যারা তৈরী করেছে, ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা বানিয়েছ তাতে জীবন দান কর, অতঃপর তিনি বললেন, হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম কখনো এমন ঘরে প্রবেশ করেন না, যেই ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের এতসব সুস্পষ্ট দলীল থাকার পরও উক্ত মুসলমান নামধারী কাট্টা মুনাফিক ব্যক্তিটি বলেছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম নাকি মূর্তির বিরুদ্ধে নয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
দ্বিতীয়ত: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বরাত দিয়ে উক্ত কাট্টা মুনাফিক বলেছে, তিনি নাকি পুতুল ব্যবহার করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! এমনকি সে ‘বুখারী শরীফ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফতহুল বারী’-এর লেখক হযরত ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ মূর্তি, ছবি বা ভাস্কর্যকে জায়িয প্রমাণ করতে গিয়ে সে দলীল হিসেবে যে পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছে, উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা মানসূখ (রহিত) হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত। যেমন উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘শরহুল কিরমানী আলাল বুখারী’তে উল্লেখ আছে-
قَوْلُهُ اَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ اَىْ بِالتَّمَاثِيْلِ الْمُسَمَّاةِ بِلَعْبِ الْبَنَاتِ وَاسْتَدَّلَّ بِالْحَدِيْثِ عَلٰى جَوَازِ اِتِّخَاذِ اللَّعْبَةِ مِنْ اَجْلِ لَعْبِ الْبَنَاتِ بِهِنَّ وَخَصَّ ذٰالِكَ مِنْ عُمُوْمِ النَّهْىىِ عَنْ اِتِّخَاذِ الصُّوَرِ وَبِهِ جَزَمَ الْقَاضِىُ عَيَاضُ وَنَقَلَهُ عَنِ الْجُمْهُوْرِ قِيْسَ وَقِيْلَ اِنَّهُ مَنْسُوْخٌ بِحَدِيْثِ الصُّوَرِ
অর্থাৎ- শিশুদের জন্য খেলনা পতুল বা মূর্তি ব্যবহার করাকে বৈধ প্রমাণ করতে গিয়ে কেউ কেউ দলীল হিসেবে এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা পেশ করে থাকে। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছবি ও মূর্তি সম্পর্কিত অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে হযরত কাজী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জমহূর উলামায়ে কিরাম উনাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করেছেন যে, বহু সংখ্যক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা উক্ত হাদীছ শরীফখানা মানসূখ বলে সাব্যস্ত হয়েছে। অর্থাৎ এর হুকুম এখন আর বলবৎ নেই।” (হাশিয়াতুল বুখারী ২য় খ- ৯০৫ পৃষ্ঠা ৬নং হাশিয়াহ)
অতএব, পুতুল নিয়ে খেলা সম্পর্কিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা সকলের মতেই মানসূখ। কেননা অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে মূর্তি, পুতুল, ভাস্কর্য, ছবি ইত্যাদি তৈরি করাকে সরাসরি নিষেধ করা হয়েছে এবং তৈরি করাকে কঠিন গুনাহের কারণ বলা হয়েছে।
তাই সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে পতুল তৈরি করা এবং পুতুল নিয়ে খেলা নাজায়িয ও হারাম।
এই চরম জাহিল ও কাট্টা মুনাফিক জানে না, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুতে অনেক বিষয় ছিল যা পরবর্তীতে মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে।
উদাহরণস্বরূপ পর্দার বিধান নাযিল হয়েছে পঞ্চম হিজরী সনে। পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাহ উনারা গইরে মাহরাম পুরুষদের সাথে দেখা করতেন। এখন পূর্বের সেই বর্ণনা দলীল হিসেবে গ্রহন করে কি মহিলারা বেগানা পুরুষদের সাথে দেখা করতে পারবে? কখনোই না।
অনুরূপভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথমদিকে মদ হারাম ঘোষণা করা হয়নি। পর্যায়ক্রমে তা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এখন হারাম ঘোষিত হওয়ার পূর্বের দলীল দিয়ে কেউ যদি মদ খায় বা মদের ব্যবসা করে তা কি জায়িয হবে? কখনোই নয়।
একইভাবে প্রথমদিকে নামাযের মধ্যে কথা বলা নিষেধ ছিল না, যার কারণে মুছল্লীগণ নামাযের বিষয়ে নামাযরত মুছল্লীদেরকে এবং অন্য বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও কথাবার্তা বলতেন। এখন বুখারী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত সেই হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে গ্রহন করে এখন নামাযে কথা বলা যাবে কি? বললে নামায হবে কি?
এ ধরণের আরো অনেক বিষয়ই রয়েছে যা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথমদিকে নাজায়িয ও হারাম ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে তা নাজায়িয ও হারাম ঘোষণা করা হয়।
উক্ত বিষয়সমূহের ন্যয় একটি হচ্ছে মূর্তি ও ছবি।
চরম জাহিল ও কাট্টা মুনাফিক ব্যক্তিটি ছবি ও পুতুল সংক্রান্ত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মানসূখ বর্ণনাসমূহ উল্লেখ করেছে, কিন্তু উনার থেকে ছবি, মূর্তি হারাম হওয়া সংক্রান্ত যে পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ বর্ণিত আছে, তা সে উল্লেখ করেনি। যেমন-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُوْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّهَا اِشْتَرَتْ نُمْرَقَةً فِيْهَا تَصَاوِيْرُ فَلَمَّا رَاٰهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ عَلَى الْبَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ فَعَرَفَتْ فِىْ وَجْهِهِ الْكَرَاهِيَّةَ قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَتُوْبُ اِلَى اللهِ وَاِلٰى رَسُوْلِهِ مَا ذَا اَذْنَبْتُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَالُ هٰذِهِ النُّمْرَقَةِ قُلْتُ اِشْتَرَيْتُهَا لَكَ لِتَقْعُدَ عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اَصْحَابَ هٰذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ يُقَالُ لَهُمْ اَحْيُوْا مَا خَلَقْتُمْ وَقَالَ اِنَّ الْبَيْتَ الَّذِىْ فِيْهِ الصُّوْرَةُ لَا تَدْخُلُهُ الْمَلٰئِكَةُ
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি একটি বালিশ মুবারক ক্রয় করেছিলেন। তাতে ছবি আঁকা ছিল। পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দৃষ্টি মুবারকে এসে পতিত হলে তখন তিনি আর পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ গ্রহণ করলেন না। উম্মুল মু’মিনীন সায়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বুঝতে পেরে বললেন- ‘আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকট তওবা করছি।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন: এই বালিশ মুবারক কোথায় পেলেন? তিনি বললেন: আমি এটা এজন্য খরিদ করেছি যাতে আপনি এতে হেলান দিয়ে বিশ্রাম গ্রহণ করতে পারেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন: যারা এই সমস্ত ছবি অঙ্কন করেছে তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন কঠিন আযাব দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে: তোমরা যাদেরকে সৃষ্টি করেছিলে তাদের জীবিত করো। অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন: যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (মুসলিম শরীফ ‘পোশাক ও সৌন্দর্য’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ নং ২৬)
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُوْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ حَدَّثَتْهُ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمْ يَكُنْ يَتْرُكُ فِىْ بَيْتِهِ شَيْئَا فِيْهِ تَصَالِيْبُ اِلَّا نَقَضَهُ
অর্থ: উম্মুল মু’মনীন আছ ছালিছাহ সায়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় পবিত্র হুজরা শরীফে (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কোনো জিনিসই রাখতেন না। দেখলেই ভেঙ্গে চূর্ণ করে দিতেন। (বুখারী শরীফ : মিশকাত শরীফ)
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُوْمِنيْنَ الثَّالِثَةِ عَلَيْهَا السَّلَام اَنَّهَا كَانَتْ قَدْ اِتَّخَذْتُ عَلٰى سَهْوَةٍ لَّهَا سِتْرًا فِيْهِ تَمَاثِيْلُ فَهَتَكَهُ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সায়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে অপর একটি বর্ণনা মুবারকে এসেছে যে, একবার তিনি পবিত্র হুজরা শরীফ উনার জানালা মুবারকে একটি পর্দা মুবারক ঝুলিয়ে ছিলেন, যাতে প্রাণীর ছবি ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পর্দাটিকে ছিঁড়ে ফেললেন। (মিশকাত শরীফ)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে- খোদ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার বর্ণনা মুবারকে উল্লেখ রয়েছে যে, ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে হারাম।
কাজেই, মূর্তি, ভাস্কর্য, ছবি ইত্যাদি জায়িয সাব্যস্ত করতে হলে উক্ত আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মোকাবেলায় আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দলীল দিতে হবে। অন্যথায় কস্মিনকালেও তা গ্রহনযোগ্য হবে না। কেননা মূর্তি, ভাস্কর্য, ছবি তৈরি করা, আঁকা, তোলা ইত্যাদি হারাম ও কুফরী এবং তার পরিণতি জাহান্নাম এ সংক্রান্ত আহকাম সংক্রান্ত বহু পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বিদ্যমান।
কিন্তু উক্ত চরম জাহিল ও গ-মূর্খ লোকটি মূর্তির পক্ষে আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিবর্তে এমনসব দলীল উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে যা তাকে কাট্টা মুনাফিক ও কাট্টা কাফিরে পরিণত করেছে এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে চরম অজ্ঞ, গ-মূর্খ ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের এতসব সুস্পষ্ট দলীল থাকার পরও উক্ত মুসলমান নামধারী কাট্টা মুনাফিক ব্যক্তিটি বলেছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম নাকি মূর্তির বিরুদ্ধে নয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
তৃতীয়ত কাট্টা মুনাফিক ব্যক্তিটি বলেছে, “তখন সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার দেয়ালে ৩৬০টি মূর্তি ও অনেক ছবির সঙ্গে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার সম্মানিত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের ছবিও ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের ছবি বাদে বাকি সব ছবি মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।’ নাউযুবিল্লাহ!
উপরোক্ত বর্ণনা ও ইতিহাস সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুল। সঠিক বর্ণনাসমূহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمَّا رَاَى الصُّوَرَ فِى الْبَيْتِ لَـمْ يَدْخُلْهُ حَتَّى اَمَرَ بِهَا فَمُحِيَتْ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিকৃতি/ছবি দেখলেন, তখন তা মুছে ফেলার নির্দেশ মুবারক দিলেন। প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলার আগ পর্যন্ত তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেননি।” (বুখারী শরীফ)
অপর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهُوَ بِالْبَطْحَاءِ اَنْ يَّأْتِىَ الْكَعْبَةَ فَيَمْحُوْ كُلَّ صُوْرَةٍ فِيْهَا فَلَمْ يَدْخُلْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى مُـحِيَتْ كُلُّ صُوْرَةٍ فِيْهَا
অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন- যেন তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতরের সব মূর্তি-ছবি নষ্ট করে দেন। অতঃপর মূর্তি-ছবি নষ্ট করার আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতর তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেননি। (আবু দাউদ শরীফ, বায়হাকী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمَّا قَدِمَ مَكَّةَ أَبَى أَنْ يَّدْخُلَ الْبَيْتَ وَفِيْهِ الْآلِهَةَ فَأَمَرَ بِهَا فَأُخْرِجَتْ فَأَخْرَجَ صُوْرَةَ إِبْرَاهِيْمَ وَإِسْمَاعِيْلَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ فِىْ أَيْدِيْهِمَا مِنَ الْأَزْلَامِ فَقَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاتَلَهُمُ اللهُ لَقَدْ عَلِمُوْا مَا اسْتَقْسَمَا بِهَا قَطُّ ثُمَّ دَخَلَ الْبَيْتَ فَكَبَّرَ فِىْ نَوَاحِى الْبَيْتِ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র কা’বা শরীফ উনার কাছে আসলেন, তখন মূর্তি থাকায় উহার ভিতরে তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন না। এরপর তিনি নির্দেশ মুবারক দিলেন সেগুলো অপসারণ করার জন্য; এবং তাই করা হলো। সেখানে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাদের প্রতিকৃতিও ছিল, উনাদের হাতে ভাগ্য নির্ধারণী তীর ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা দেখে ইরশাদ মুবারক করলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে (যারা এগুলো বানিয়েছে) ধ্বংস করুন। তারা কি জানতো না যে, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনারা কখনো এসব ভাগ্য নির্ধারণী তীর ব্যবহার করেননি? এরপর তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন এবং চতুর্দিকে তাকবীর ধ্বনি দেয়া হলো। (বুখারী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ)
এভাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাবেও বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ حَضْرَتْ اُسَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَعْبَةَ فَرَاَيْتُ فِى الْبَيْتِ صُوْرَةً فَاَمَرَنِىْ فَاَتَيْتُهُ بِدَلْوٍ مِنَ الْـمَاءِ فَجَعَلَ يَضْرِبُ تِلْكَ الصُّوْرَةَ وَيَقُوْلُ قَاتَلَ اللهُ قَوْمًا يُصَوِّرُوْنَ مَا لَا يَخْلُقُوْنَ
অর্থ: হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করলাম। তিনি তাতে কিছু ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি এক বালতি পানি আনতে আদেশ মুবারক করলেন। আমি পানি আনার পর তিনি তা দিয়ে সেগুলো মুছে দিলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করুন, যারা এমন জিনিসের আকৃতি দেয় যা তারা সৃষ্টি করতে পারবে না”। (আবু দাউদ শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ত্বহাবী শরীফ)
বর্ণিত হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট যে, পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মধ্যে মুশরিক নির্মিত মূর্তি ধ্বংস এবং অঙ্কিত ছবি মিটিয়ে দেয়ার পূর্বে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কা’বা শরীফে প্রবেশ করেননি। এমনকি প্রবেশ করার পর যে সমস্ত ছবির অস্তিত্ব অনুভব করেছেন বা ছবির কোন ছাপ উপলব্ধি করেছেন, এমন ছবিগুলোও তিনি নিজ হাত মুবারকে মিটিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এসমস্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত মূর্তি ও ছবি নষ্ট করেন এবং এতে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রতিকৃতি অক্ষুণœ থাকার কেনো প্রমাণ নেই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের ছবি নষ্ট করতে নিষেধ করেন, তা কেউ বর্ণনা করেননি। এটি সম্পূর্ণই বানোয়াট।
যেমন ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি জীবনী গ্রন্থের দুই ধারক হযরত ইমাম তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা কেউই এ বর্ণনাটি উল্লেখ করেননি। এ দুটো জীবনী গ্রন্থ ছাড়া অন্য কোনো জীবনী গ্রন্থেও এর উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, হিজরী ৮ম সনে পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত সমস্ত মূর্তি, ভাস্কর্য, ছবি ধ্বংস করে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করেছিলেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, মূর্তি, ভাস্কর্য, ছবি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করার পরেই অর্থাৎ হিজরী ৯ম সনে পবিত্র হজ্জ ফরয করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
আরো উল্লেখ্য, অতীতের কোন বিষয় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মুখালিফ বা বিরোধী হলে তা মুসলমানদের জন্য গ্রহণ করা বা অনুসরণ করা জায়িয নেই। যেমন- আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যামানা থেকে শুরু করে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার যামানা পর্যন্ত আপন ভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ জায়িয ছিল। তাই বলে কি এখন আপন ভাই-বোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়িয হবে? কখনোই নয়। কেউ যদি জায়িয মনে করে, সে কি মুসলমান থাকবে? বরং সে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। তদ্রূপ হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার যামানায় মূর্তি, ভাস্কর্য থাকার দলীল সম্মানিত দ্বীন ইসলাম বা সম্মানিত মুসলমান উনাদের জন্য কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
هُوَ الَّذِىْ أَرْسَلَ رَسُوْلَه بِالْهُدٰى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَه عَلَى الدِّيْنِ كُلِّه ۚ وَكَفٰى بِاللّٰـهِ شَهِيْدًا
অর্থ: তিনি ঐ মহান আল্লাহ পাক যিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হিদায়েত ও সত্য দ্বীন অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তথা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ সহকারে প্রেরণ করেছেন (পিছনের ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত এবং অতীতে, বর্তমানে ও ভবিষ্যতে মানবরচিত সমস্ত দ্বীন-ধর্ম-মতবাদের উপর প্রাধান্য দিয়ে তথা বাতিল ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে মহান আল্লাহ পাক তিনিই যথেষ্ট। (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮)
অতএব, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কারো দ্বীন-ধর্ম-মতবাদ, আদর্শ, তর্জ-তরীক্বা, তন্ত্র-মন্ত্র, নিয়ম-নীতি গ্রহণযোগ্য অনুকরণ ও অনুসরণযোগ্য নয়।
কাজেই, প্রতিমা বলা হোক, মূর্তি বলা হোক, ভাস্কর্য বলা হোক প্রত্যেকটাই মূর্তি এবং প্রত্যেকটার হুকুম এক। প্রতিমা, মূর্তি, ম্যানিকিন, ভাস্কর্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা চরম জিহালতি, গ-মূর্খতা ও মনগড়া। মনগড়া বা বানোয়াট কোন কথা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও সম্মানিত মুসলমান উনাদের জন্য কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ
অর্থ: যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক, তবে দলীল পেশ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১১)
কাজেই, কেউ কোন বিষয়কে জায়িয কিংবা নাজায়িয প্রমান করতে চাইলে তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের থেকে দলীল পেশ করতে হবে। আর দলীল প্রদানকারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে যার দলীল বেশি এবং নির্ভরযোগ্য হবে তারটাই সঠিক বলে সাব্যস্ত হবে।
উল্লেখ্য, মুসলমান উনাদের জন্য কোন স্থান, কোন দেশ, কোন সম্প্রদায়, কোন ব্যক্তি দলীল নয়।
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা মূর্তিকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ মূর্তি মানেই হারাম তা মূর্তি, ভাষ্কর্য, প্রতিমা, ম্যানিকিন, পুতুল, কুশপুত্তলিকা, রূহওয়ালা প্রাণীর ছবি বা আকৃতি অথবা অন্য যে কোন নামেই নামকরণ করা হোক না কেন, সবই সুস্পষ্টভাবে হারাম ও নাজায়িয। অনুরুপভাবে উপাসনা করা, সম্মান প্রদর্শন করা, অসম্মান প্রকাশ করা, স্মৃতি ধরে রাখা, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, শিশুদের খেলনার বস্তু বানানো, দাহ করা, ঘর সাজানো, কোন কিছুর প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা অথবা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যেই রূহওয়ালা কোন প্রাণীর আকৃতি তৈরী করা, মুদ্রণ করা, ছাপানো, খোদাই করা, সংরক্ষণ করা, প্রদর্শন করা সবই হারাম নাজায়িয এবং কঠিন গুণাহর কাজ। যা থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্য ফরয। মহান আল্লাহ পাক সকলকে বেঁচে থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আগামীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত দলীল-আদিল্লাহসহ ফতওয়া প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।



This post has been seen 349 times.
শেয়ার করুন

Recently Published

article image
»

One Piece Bounty Rush Cheats

Since now you can download the One Piece Bounty Rush hack and enjoy ...

article image
»

One Piece Bounty Rush Cheats

Since now you can download the One Piece Bounty Rush hack and enjoy ...

article image
»

James Patterson The 17th Suspect ebook

FREE EBOOKS James Patterson The 17th Suspect ebook Language: ...

article image
»

James Patterson The 17th Suspect ebook

FREE EBOOKS James Patterson The 17th Suspect ebook Language: ...

article image
»

Lord of Dice cheats tips and tricks

Here you can find the newest version of the Lord of Dice android ...

article image
»

Lord of Dice cheats tips and tricks

Here you can find the newest version of the Lord of Dice android ...

article image
»

Odpowiednik odcinek 4 online

ODPOWIEDNIK ONLINE ODPOWIEDNIK ODCINEK 4 LEKTOR ONLINE LINK DO ...

article image
»

Odpowiednik odcinek 3 online

ODPOWIEDNIK ONLINE ODPOWIEDNIK ODC 3 LEKTOR ONLINE LINK DO ...

article image
»

Odpowiednik odcinek 5 online

SERIAL ODPOWIEDNIK ONLINE ODPOWIEDNIK ODC 5 LEKTOR ONLINE LINK DO ...

Shares
Loading...