banner

The New Stuff

17937 Views

ইসলাম পূর্ণাংগ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, রাষ্ট্রভিত্তিক বা রাষ্ট্রনির্ভর নয়, রাষ্ট্রের উর্ধ্বে স্বাধীন থাকবে – আল্লামা ইমাম হায়াত


ইসলামের প্রকৃতধারা আহলে সুন্নাত ও মানবাধিকারের দৃষ্টিতে ইসলাম বা কোন ধর্মের নামে একক ধর্মরাষ্ট্র-
রাষ্ট্রধর্ম ও একক জাতি-গোত্র-ভাষা-শ্রেণী-বর্ণ ভিত্তিক একক গোষ্ঠীবাদী রাজনীতি-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থা

ব্লগ টাইমস৭১বিডি , ঢাকা –

দয়াময় আল্লাহতাআলা তাঁর পরম মহিমাময় মহাসত্ত্বার মোবারক নূর ও তাঁর প্রিয়তম মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামকে কেন্দ্র করে জীবন, জগত ও প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর প্রিয়তম মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামের মাধ্যমে জীবনের সব কিছু সঠিক ধারায় সঠিক লক্ষ্যে এগিয়ে চলার ও সকল বিপর্যয় থেকে মুক্ত থাকার পরিপূর্ণ আলো-দিশা-পথ- প্রক্রিয়া-ব্যবস্থা দান করেছেন, যার নাম ইসলাম। দেহের মূল বিষয় যেমন প্রাণ, তেমনি ইসলামেরও মূল বিষয় ঈমান, আর ঈমানের মূল হচ্ছে দয়াময় আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে, তাঁর প্রিয়তম মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামের হয়ে যাওয়া, সব কিছুর উর্ধ্বে যাঁর ভালবাসা ও সম্পর্ক ব্যতীত আল্লাহতাআলার কোন সম্পর্ক ও কবুলিয়ত হয় না। রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক আত্মসত্ত্বার মাধ্যমেই ঈমানী জীবন চেতনা গঠিত হয় এবং ইসলামের সমগ্র রূপরেখা পরিচালিত হয় এবং এর বিপরীত বস্তুবাদী আত্মসত্ত্বা ও জীবন চেতনার মাধ্যমে বিপরীত বিকৃত মত-পথ-প্রক্রিয়া গঠিত হয় যা এমনকি ইসলামের ছদ্মনামেও পরিচালিত হয়।
আইন আমল সব কিছুর পূর্বে ও উর্ধ্বে ইসলামের প্রাণ ঈমান আর ঈমানের প্রাণ দয়াময় আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে প্রিয়নবীর প্রেম, দয়াময় আল্লাহতাআলার সম্পর্ক ও মহান প্রিয়নবীর প্রেমের অনিবার্য শর্ত সব মিথ্যা জুলুম থেকে মুক্ত হয়ে সত্য ও মানবতার ধারক হয়ে যাওয়া। দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামের প্রেম তথা ঈমান এবং সব মানুষের প্রতি ভালবাসা ও সবার কল্যাণ সাধনা, সবার জীবন-অধিকার-নিরাপত্তা-স্বাধীনতার রক্ষক হওয়া অবিচ্ছেদ্য বিষয় এবং যারা তা ইসলাম বা যে কোন নামে লংঘন করে তারা দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম তথা ইসলামের জঘন্য শত্রু। আল্লাহতাআলার সর্বোচ্চ রহমত হিসেবে দুনিয়ায় প্রিয়নবীর শুভাগমন সব মানুষের জন্য সত্য-ন্যায়-জ্ঞান-অধিকার-কল্যাণের উৎস হিসেবে এবং সত্য ও জীবনের শত্রু সকল প্রকার বস্তুবাদ ও ধর্মের নামে সকল অধর্মের মিথ্যা জুলুম এবং এতদুভয়ের সৃষ্ট অন্যায়-পরাধীনতা-খুন-অবিচার-বর্বরতা- পাশবতা-স্বৈরদস্যুতা ভিত্তিক একক গোষ্ঠিবাদী অপরাষ্ট্রকাঠামো ও অন্যায় অমানবিক বিশ্বকাঠামো থেকে উদ্ধার ও মুক্ত করে সত্য উপলব্ধি ও জীবনের সব কল্যাণ অর্জন ও বিকাশ সাধনের রূদ্ধ দ্বার খুলে দেয়ার জন্য। প্রিয়নবীর দেয়া ইসলাম অন্যান্য মতবাদ ও ধর্মের নামে অন্যান্য অধর্ম উগ্রবাদের মত জবরদস্তি চাপিয়ে দেয়ার ধর্ম নয়, জ্ঞান ও স্বাধীনতার মাধ্যমে মুক্তভাবে উপলব্ধি ও একাত্ম হওয়ার ধর্ম। ইসলামের মূলনীতি লংঘন করে যারা সংখ্যা বা শক্তির জোরে অন্যান্য মতবাদ ও ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদের মত বলপূর্বক রাষ্ট্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের মতপথ ধর্ম চাপিয়ে দিতে চায় এবং রাষ্ট্র ও বিশ্বকে একক গোষ্ঠিভিত্তিক করে নিতে চায় তারা প্রকৃত ইসলামের বিপরীত।
ইসলামের মূল বিষয় যেহেতু সত্য-ন্যায়-জ্ঞান-প্রজ্ঞা-দোজাহানে মানবতার কল্যাণ ও মুক্তি যার উৎস ঈমানের পবিত্র কলেমার রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক জীবন চেতনা, যে আত্মসত্ত্বা প্রতিটি মানুষকে দেয় তার আত্মমালিকানা ও দুনিয়ার মালিকানা, প্রতিটি মানুষকে দেয় আত্মা ও জীবনের স্বাধীনতা- অধিকার-হৃদয়-উপলব্ধি, যা হরণ হয়ে গেলে সত্য-ন্যায়-জ্ঞান-প্রজ্ঞার মুক্ত ধারাই হারিয়ে যায় এবং বিপরীত কিছু কায়েম হয়ে যায়, তাই সত্য তথা ইসলাম ক্ষমতার জোরে বলপূর্বক চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। আত্মার প্রক্রিয়া স্বাধীন, জীবনের উপর জবরদস্তি করা গেলেও আত্মার উপর জবরদস্তি চলে না, মুক্ত আত্মার জ্ঞান ও হৃদয়গত উপলব্ধি ব্যতীত সত্য উপলব্ধি হয় না। যেখানে জবরদস্তি বলপূর্বক কিছু চাপিয়ে দেয়া হয় সেখানে সত্য তথা প্রকৃত ইসলাম নেই, প্রকৃত ইসলাম রূদ্ধ ও বিকৃত হয়ে ইসলামের ছদ্মনামে বিপরীত কিছু হয়ে যায়। ইসলামের প্রাণ ঈমানের সাথে হক বাতেল উপলব্ধির বিষয় অবিচ্ছেদ্য জড়িত, যে উপলব্ধির জন্য স্বাধীন ও মুক্ত ইসলাম এবং স্বাধীন ও মুক্ত জীবন অপরিহার্য্য। রাষ্ট্র ক্ষমতা বা কোন প্রকার বলপ্রয়োগে যা কুক্ষিগত বা হরণ হয়ে গেলে ঈমানের আলোকধারা তথা সত্যের প্রাণ প্রবাহ ও জীবনের মুক্ত ধারা রূদ্ধ হয়ে নিছক বাহ্যিক আইন আমলের বেশে প্রাণহীন বিকৃত ভূয়া ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রকৃত ইসলাম রূদ্ধ ও উৎখাতেরই এক প্রক্রিয়া।
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ, আত্মা-জীবন-রাষ্ট্রব্যবস্থা-বিশ্বব্যবস্থার সবদিকে তথা আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক সর্ব বিষয়ে সমগ্র মানবমন্ডলীর সবার জন্য ইসলাম দিয়েছে সত্য-ন্যায়-কল্যাণ ভিত্তিক পরিপূর্ণ দিশা-পথ-দিকদর্শন, কিন্তু তা কোনো মতেই ক্ষমতার বলে জবরদস্তি চাপিয়ে দেয়া ইসলামের শিক্ষা নয় বরং বিপরীত ও নিষিদ্ধ। দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামের অসীম রহমত হিসেবে দ্বীনের স্বাধীনতা ও জীবন-জ্ঞান-বিবেক- মানবতার স্বাধীনতা দান করে ও সকল জবরদস্তি-বলপ্রয়োগ-রূদ্ধতা-কর্তৃত্ত্ববাদ থেকে মুক্তি দিয়ে এবং জীবন ও দ্বীনের মুক্ত রূপরেখা ও মুক্ত প্রয়োগ পদ্ধতি নির্দেশিত করে বলা হয়েছে-“লা ঈকরাহা ফীদ্দ¡ীন”(সুরা-আল বাকারা, আয়াত শরীফ-২৫৬)-অর্থাৎ দ্বীনে জবরদস্তি নিষিদ্ধ। আয়াত শরীফের অন্যতম শিক্ষা এই যে- ইসলাম চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়, কেবল নাম জারি বা হুকুম জারি করে দিলেই তা ইসলাম হয় না। স্বৈর রাষ্ট্র ক্ষমতার বলপূর্বক অপপ্রয়োগে নয় কিম্বা নামসর্বস্ব ঘোষণা নয়, জীবনের সর্বস্তরে ঈমান-দ্বীন কায়েম হওয়ার একমাত্র পথ পদ্ধতি জ্ঞান উপলব্ধির মুক্ত স্বাধীন মানবিক ব্যবস্থা। নির্দেশিত এ মুক্ত জীবন ও মুক্ত মানবতার স্বার্থে এবং সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহের জন্য একক গোষ্ঠীবাদী স্বৈরদস্যুতার অন্যায় আধিপত্যমুক্ত মানবতার মুক্ত দুনিয়া অবিকল্প অপরিহার্য্য যা ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য ও নির্দেশনা।
রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা জীবন ব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য বিষয় হিসেবে জীবনের সর্বাঙ্গিন আলো ইসলামের আলোকধারাতেই জবরদস্তি মুক্তভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা চলবে, কিন্তু ইসলাম রাষ্ট্রভিত্তিক-রাষ্ট্রনির্ভর- রাষ্ট্রকেন্দ্রিক- রাষ্ট্রীয় আইন ভিত্তিক নয়, রাষ্ট্রের উর্ধ্বে স্বাধীন থাকবে। এমনকি মানবজীবনও বস্তুর উর্ধ্বে রাষ্ট্রের উর্ধ্বে একমাত্র আল্লাহতাআলার নামে থাকতে হবে রেসালাতে ইলাহীকে অবলম্বন করে, না হয় বস্তুবাদী আঁধারে মানবসত্ত্বা বিনাশ হয়ে যাবে এবং তার গন্তব্য মুমিন সত্ত্বায় পৌছবে না। ইসলামের মূল ঈমান তথা হক-বাতেল বুঝে হকের সাথে একাকার হয়ে যাওয়া এবং বাতেল থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় আইনের বিষয় নয় বা কোন ভাবেই বলপ্রয়োগের বিষয় নয়, কেবল হৃদয়গত-জ্ঞানগত আত্মিক মুক্ত উপলব্ধির বিষয়। ঈমানের পর ইসলামের বাকি চার স্তম্ভ নামাজ-রোজা- যাকাত-হজ্জ্ব এ প্রধান ব্যক্তিগত আমল গুলোও রাষ্ট্রীয় আইনের বিষয় নয়। ঈমান ও চার স্তম্ভের পর সৎ গুণাবলি অর্জন ও অসৎ স্বভাব থেকে মুক্ত থাকা, হালাল-হারাম, বিভিন্ন এবাদত ও অন্যান্য আদেশ নিষেধ সংক্রান্ত এবং জীবনের নিয়ম পদ্ধতিমূলক বিষয়গুলো ব্যক্তিগত বিষয় অর্থাৎ ধর্মরাষ্ট্র-রাষ্ট্রধর্ম বা রাষ্ট্রীয় আইন নির্ভর নয়, ব্যক্তিকেই জবাবদিহী ও পরিণতি লাভ করতে হবে। আমরা দুনিয়াব্যাপী মুসলিমগণ রাষ্ট্রীয় আইন, ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম ইত্যাদি কারণে নামাজ রোজা পালন বা হালাল হারাম মেনে চলিনা, চলি সেচ্ছায় নিজের ঈমান দ্বীন ভিত্তিক ব্যক্তিগত চেতনায় সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, পূন্য-পাপ, ভাল-মন্দ, বৈধ-অবৈধ, কল্যাণ-অকল্যাণ উপলব্ধির ভিত্তিতে নিজের ঈমানী দ্বীনী তাকিদে এবং সর্বোপরি দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামের কল্যাণময় নির্দেশনা এবং প্রেম ও নৈকট্য সাধনা হিসেবে।
দ্বীন ও জীবনের পূর্ণাংগতা অস্বীকার করে অরাজনৈতিক হওয়া তথা বাতিল জালিম অপশক্তিকে কবুল ও আত্মসমর্পণ করে তাদের হাতে জীবন ও দুনিয়ার কর্তৃত্ত্ব তুলে দেয়া যেমন মহান শাহাদাতে কারবালার ঈমানী শিক্ষার বিপরীত তথা ইসলাম নয়, তেমনি বাতিল ফেরকা- বস্তুবাদী মতবাদ ও ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদের একক গোষ্ঠীবাদী স্বৈরদস্যুতার অন্যায় অপরাজনীতিও ইসলামের রাজনীতি নয়। ইসলামের সরাসরি নামে বা কোনো একক ধর্ম- জাতি-গোত্র-ভাষা-মতবাদের একক নামে একক গোষ্ঠীস্বার্থে রাজনীতি- রাজনৈতিক দল-রাষ্ট্র ইসলাম বিরোধী এবং সত্য- ন্যায়-মানবতা ধ্বংসাত্মক। রাষ্ট্র বা কোনো কিছুর সাথে ইসলাম শব্দটা লাগিয়ে দিলেই বা দাবী করলেই সেটা ইসলামী হয়ে যায়না বরং প্রায়ক্ষেত্রেই সত্য ও মুক্তির এ মহান নামের জঘন্য অপব্যবহার ও ধ্বংসাত্মক বিকৃতি হয়। অনেকে মনে করেন ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম ধর্ম রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার সহায়ক এবং তা না হলে ধর্ম রক্ষা হয় না, এটা ধর্মের প্রতি বোধহীন অনুরাগ বশতঃ হলেও ধর্মের শিক্ষা, মর্ম ও রূপরেখা সম্পর্কে জঘন্য অজ্ঞতা ও বিপরীত ধারণা, মানবজীবন ও রাষ্ট্র বুঝতে অক্ষমতা, ধর্ম নিয়ে জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র এবং অপরাজনীতি সম্পর্কে অন্ধত্ত্ব, ধর্মকে অসৎ চক্রের হাতে তুলে দিয়ে ধর্মের জ্ঞানভিত্তিক স্বাধীনতা ও মুক্ত ধর্ম বিনষ্ট করে ধর্মের প্রাণ কেড়ে নেয়া এবং রাষ্ট্রকে স্বৈরতান্ত্রিক মানবতা বিনাশী করে তোলা যা ধর্ম ও মানবতার জন্য ধ্বংসাত্মক।
ইসলাম জীবনের সার্বিক রূপরেখা, ইসলামকে খন্ডিতভাবে কেবল আধ্যাত্মিক মতবাদ বা কেবল আইন আমল বা কেবল রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে দেখা দৃষ্টিহীনতা ও ইসলামকে বুঝতে অক্ষমতা। ইসলামের বাহিরে জীবনের কিছুই নেই কিন্তু সব ক্ষেত্রে পালন ও প্রয়োগ পদ্ধতি এক নয়। ইসলামের ছদ্মবেশী বাতেল ফেরকা সমূহ তাদের অসৎ স্বার্থে ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী হুকুমত, ইসলামী শাসন ইত্যাদি শব্দের আড়ালে স্বাধীন ও পূর্ণাংগ ইসলামের রূপরেখা পাল্টিয়ে ও প্রকৃতি বিকৃত করে দেয় এবং তাদের বাতেল মতবাদ চাপিয়ে দেয়ার জন্য ইসলামের কর্তৃত্ত্ব ছিনিয়ে নিতে চায়। জীবনের অন্যান্য দিকের সাথে ইসলামের নির্দেশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা অবশ্যই আছে যা শুধু নামসর্বস্ব অলংকারিক ভাবগত নয় বাস্তব, যা না থাকলে মানব জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সত্য-ন্যায়-স্বাধীনতা-অধিকার উৎখাত হয়ে মিথ্যা-অবিচার- অন্যায়-বর্বরতা-পরাধীনতা-স্বৈরতার ধারক অপশক্তির গ্রাসে জীবন ও দুনিয়া রূদ্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু ইসলামের নির্দেশিত সে রাষ্ট্রব্যবস্থা সরাসরি ইসলামের নাম লাগিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণা করে নয়, কেবল আদর্শ-সেবা ও কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে। যেখানে সত্য-সুবিচার-মানবতা-অধিকার-ন্যায়- নিরাপত্তা থাকবে, রাষ্ট্র সব মানুষের সার্বজনীন মানবিক সবার কল্যাণে হবে, খুন-গুম-লুট-অন্যায়-অবিচার-শোষণ-পাশবতা-আতংক-হিংস্রতা-বর্বরতা-স্বৈরতা-পরাধীনতা থাকবে না এবং সর্বোপরি ইসলাম ও সব অবিকৃত ধর্মের প্রকৃত মূল্যবোধের ভিত্তিতে চলবে সেটাই ইসলামের রাষ্ট্র বা দুনিয়া। কলেমার আলোকধারায় তথা সত্য ও জীবনের রূপরেখায় ইসলামের নির্দেশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াত অর্থাৎ মুক্ত জীবনের সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা ছাড়া মানব জীবন ও দ্বীনী জীবন স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে পারে না। ইসলামের নিদের্শিত সার্বজনীন মানবতার বিপরীত গোষ্ঠিবাদী স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো ও বিশ্বকাঠামো মানেই পরাধীনতা- রূদ্ধতা-খুন-জুলুমের বিভিষিকা যেখানে দ্বীনের বিকাশ ব্যহত হয় এবং জীবনের সীমাহীন ক্ষতি হয়। দ্বীন বিরোধী ও জীবন বিরোধী এহেন গোষ্ঠিবাদী স্বৈর রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলামের ছদ্মনামে যেমন হয় তেমন অন্যান্য ধর্মের ছদ্মনামেও হয় এবং বিভিন্ন বস্তুবাদী মতবাদের ধারায় হয়।
ইসলাম নিছক রাষ্ট্রীয় বা নিছক রাজনৈতিক বিষয় নয় যে ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম রূপে রাষ্ট্রকে আশ্রয় করে রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্যবহার করে তথা কেবল আইন বা হুকুম জারি করে বলপ্রয়োগে অন্যদের দমিয়ে দাবিয়ে রেখে টিকে থাকতে হবে, এটা ইসলামের নয় অন্যদের তথা গোষ্ঠিবাদীদের প্রক্রিয়া অর্থাৎ বাতেল ফেরকা-বস্তুবাদী মতবাদ-ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদের প্রক্রিয়া যাদের ভিত্তি মিথ্যা ও জুলুম ফলে রাষ্ট্র ক্ষমতার জোরে বলপূর্বক কৃত্রিম ভাবে টিকে থাকতে হয় এবং স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে টিকে থাকতে পারে না। ইসলামের প্রত্যক্ষ নামে ধর্মরাষ্ট্র ঘোষণা ইসলামের স্বাধীনতা ও মুক্ত গতিশীলতা হরণের ষড়যন্ত্র এবং ইসলামের অথরিটি কুক্ষিগত করে ইসলামের নামে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠির সব অনাচারকে ইসলাম হিসেবে চালিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রধর্ম বা ধর্মরাষ্ট্র ঘোষণা করে দিলেই সব মুসলিম হয়ে যাবে না বা সব ইসলামী হয়ে যাবে না আর এসব তুলে দিলেই সব অমুসলিম হয়ে যাবে না বা ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যাবে না, এসব গন্ডিবদ্ধতার উর্ধ্বে ইসলামের অবস্থান জীবনের সব দিকে সত্য-ন্যায়-জীবন ও মানবতার প্রাকৃতিক সূর্য্য হিসেবে। ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে নয় ইসলামকে ইসলামের মত থাকতে দিতে হবে ইসলাম তার স্বাধীন নিজস্ব অসীম রূপরেখায় এগিয়ে যাবে, কোন ব্যতিক্রম করলে সেটা ইসলামের পবিত্র নামের অপব্যবহার হবে কিন্তু প্রকৃত ইসলাম হবে না। ইসলাম ছাড়া জীবন ও জগতে আর কোন আলো ও দিশা নেই, ইসলাম সূর্য্যরে মত সবাইকে সবার জীবন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থাসহ জীবনের সব দিকে আলো দিশা দিবে কিন্তু সেটা সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহের মুক্ত পরিবেশে হৃদয়ের উপলব্ধি ও জীবনের স্বাধীনতার মাধ্যমে। সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহ-স্বাধীনতা-মানবতা ইসলামের মৌলিক দান যা নস্যাৎ হলে ইসলাম অস্বীকার ও উৎখাত হয়ে যায়।
আমাদের এ বাস্তবতা বুঝতে হবে যে, দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম প্রদত্ত এবং মহামহিম পবিত্র আহলে বায়েত-মহামান্য খোলাফায়ে রাশেদীন-মকবুল সাহাবায়ে কেরাম- সত্যের ইমামবৃন্দ ও আওলিয়া কেরামের নির্দেশিত আসল ইসলামের বিরাজমান ক্ষীণ আলোকধারার বিপরীতে ব্যাপকভাবে ভূয়া ইসলাম তথা ঈমান-দ্বীন ধ্বংসাত্মক বিভিন্ন বাতিল ফেরকা রাষ্ট্রক্ষমতা জবর দখল করে বলপূর্বক প্রকৃত দ্বীন উৎখাত করে তাদের কূফর জুলুম কায়েমের জন্য ধর্মরাষ্ট্র ও রাষ্ট্রধর্মের নামে প্রতারণা হিসেবে ইসলামের পবিত্র নাম অপব্যবহার ও ছিনতাই করে চলেছে। যেহেতু এসব বাতিল ফেরকা ভিত্তিহীন-মিথ্যা- অন্যায়-শোষণ-সন্ত্রাস-বর্বরতা-অবিচার-জীবন বিরোধী-অধিকার স্বাধীনতা হরণকারী ও ইসলামের ছদ্মনামে প্রতারণা তাই ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্মের নামে রাষ্ট্র ক্ষমতার জবরদখল ও অপব্যবহার ব্যতীত এদের অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। স্বৈর রাষ্ট্রক্ষমতায় বলপ্রয়োগে সত্য-ন্যায়-মানবতা উৎখাত ও মিথ্যা-জুলুম-শোষণ-দস্যুতা-পরাধীনতাকে ধর্মের ছদ্মনামে বা তাদের বিকৃত মনগড়া শরিয়তের নামে চালিয়ে দেয়াই এদের হাতিয়ার ও প্রতারণামূলক ধর্মরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। তথাকথিত ধর্মরাষ্ট্রের প্রতারণার মাধ্যমে এসব বাতিল জালেম অসৎ গোষ্ঠী ক্ষমতার বলে তাদের সমস্ত অনাচার-ব্যভিচার-খুন-পাশবতা-স্বৈরতা- লুট-সন্ত্রাস এ পবিত্র মহান নামের আড়ালে চালিয়ে দিয়ে দ্বীনকে কলংকিত এবং মিল্লাত ও মানবতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
ঈমানের পবিত্র কলেমার ভিত্তিতে ইসলাম প্রত্যেক মানুষকে দিয়েছে তার জীবনের আত্ম- মালিকানা ও দুনিয়ার মালিকানা, যে মালিকানার উৎস তাওহীদ ও রেসালাত, প্রতিটি মানুষের জীবন ও দুনিয়ার এ মালিকানার ভিত্তিতেই ইসলামের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার রূপরেখা খেলাফাতে ইনসানিয়াত তথা দ্বীনী মূল্যবোধ ভিত্তিক সার্বজনীন মানবতার রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা, যার মূল কথা রাষ্ট্র ও দুনিয়া সবার সব মানুষের, কোন একক গোষ্ঠীর নয়। ইসলামের সরাসরি নামে নামাকরণ করে নয় কিন্তু ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক সার্বজনীন মানবতার রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াতই ইসলামের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ও বিশ্বব্যবস্থার একমাত্র রূপরেখা, যেখানে (১) প্রত্যেক মানুষ তার বিশ্বাস আদর্শ নিয়ে স্বাধীনভাবে চলবে, রাষ্ট্র বা কেউ তার বিশ্বাস-আদর্শ- অধিকার-স্বাধীনতা-মালিকানা হরণ বা নিষিদ্ধ করতে যেমন পারবেনা তেমন বলপূর্বক কিছু চাপিয়ে দিয়ে তার মানবিক অস্তিত্ত্ব ও জীবনের মানবসত্ত্বা অস্বীকার করতে পারবেনা, (২) যেখানে প্রতিটি মানুষ দুনিয়ায় দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর প্রিয়তম মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম প্রদত্ত সব প্রাকৃতিক ও রাষ্ট্রীয় সব সম্পদ ও রিজিকের সমান অধিকার মালিকানা পাবে এবং (৩) যেখানে সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহ থাকবে, রাষ্ট্র বা কেউ তা রূদ্ধ করবেনা, সত্য-মিথ্যা বা ধর্ম-অধর্ম ক্ষমতার বলে তথা কোন গোষ্ঠীবাদী স্বৈররাষ্ট্র নির্ধারণ করবেনা, যার সত্য তার কাছে তার জন্য যা জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহের ধারায় বিকশিত হবে, রাষ্ট্র ক্ষমতার বলে জবরদস্তি ঘোষিত বিশেষ গোষ্ঠীর আরোপিত কৃত্রিম সত্য নয়, সত্য তার জ্ঞান ভিত্তিক স্বাধীন নিজস্ব প্রাকৃতিক মুক্তধারায় এগিয়ে যাবে ও জীবনকে এগিয়ে নেবে। রাষ্ট্র ক্ষমতা বা সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তি মনে করা সত্য ও জীবনকে অস্বীকার করা।
প্রত্যেক বিষয়কে তার সার্থকতার জন্য অবিকৃতভাবে তার স্বকীয় প্রকৃতি ও কক্ষপথে চলতে দিতে হবে, না হয় বিপর্যয় ও অবিচার হবে। সবকিছু জীবনের জন্য জীবনেরই বিষয় যেখানে যার যার স্বঅবস্থান ও সীমারেখা বজায় রেখে পারস্পারিক সম্পর্কও থাকবে, কিন্তু প্রত্যেক কিছুর নিজস্ব ও আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য-স্বাতন্ত্র্য-স্থান-স্তর-কার্যপদ্ধতি-গতিপথ আছে, যা নস্যাৎ হলে সব ধ্বংস হয়ে যায়। ধর্ম আর রাষ্ট্র এক বিষয় নয়, দল আর রাজনৈতিক দল এক বিষয় নয়, ব্যক্তিজীবন ও রাষ্ট্র-বিশ্ব এক বিষয় নয়, মসজিদ আর বাজার এক বিষয় নয়, জীবন-ধর্ম-জাতীয়তা-বংশগোত্র-ভাষা- দর্শন-সংস্কৃতি যার যার প্রত্যেকের কিন্তু রাষ্ট্র ও বিশ্ব সবার সব মানুষের এবং এটা কলেমা শরীফ তথা দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁর প্রিয়তম মহান হাবীব সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামেরই অলঙ্ঘনীয় দান যা হরণের অধিকার কারো নেই। যে যার বিশ্বাস মতবাদ নিয়ে চলবেন, দল করবেন ও প্রচার করবেন সেটা সবারই স্বাভাবিক মানবিক অধিকার, কিন্তু রাষ্ট্র ও বিশ্বের উপর সবার অধিকার অস্বীকার করে জবরদস্তি কেবল এক গোষ্ঠীর কেবল আপনার একার করে ফেলবেন এটা অন্যায়-অবৈধ-স্বৈরদস্যুতা যাহা পবিত্র কলেমার জীবন চেতনার ভয়ংকর লংঘন এবং দ্বীন ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বস্তুর উর্ধে মানবসত্ত্বা-জীবনের স্বাধীনতা-মানবাধিকারে বিশ্বাসী সবাই মানুষ, রাষ্ট্র বা দুনিয়া সবার সব মানুষের, ক্ষমতা বা সংখ্যা গরিষ্ঠতার বলে এক গোষ্ঠীর নয়। রাষ্ট্র বা দুনিয়াকে কেবল এক গোষ্ঠীর চিন্তা করাও দস্যুবৃত্তিক অসৎ চিন্তা ও অপরাধ।
ইসলাম সমগ্র জীবন জগতের আলোর উৎস অসীম প্রাকৃতিক বিষয় ও ব্যবস্থা, ক্ষমতা নির্ভর রাষ্ট্র আশ্রিত ধর্ম নয়, ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের পবিত্র নামে জঘন্য খারেজি প্রতারণা এবং ইসলামের অথরিটি ছিনতাই কুক্ষিগত করে ফেলা। তথাকথিত নামধারী স্বঘোষিত ক্ষমতা নির্ভর জবরদস্তি মূলক ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম ও সকল প্রকার একক গোষ্ঠিবাদী স্বৈররাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলামের বিপরীত ও সব ধর্মের প্রকৃত মানবিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের বিপরীত যা পরিবর্তন করে প্রকৃত ধর্ম-জীবন ও মানবতার স্বাধীনতা তথা সত্যের অবাধ মুক্ত প্রবাহ রক্ষা করতে হবে। ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম ঘোষিত হলে ধর্মের প্রকৃতধারা সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহ রূদ্ধ হয়ে ধর্মের ছদ্মনামে জঘন্য অধর্ম অন্যায় অবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়ে প্রকৃত ধর্মের অপমৃত্যু ঘটে যা আমরা খারেজি সালাফি শিয়া ওহাবী প্রাদূর্ভাব ও ধর্মের নামে রাষ্ট্র ক্ষমতা জবরদখল ও তাদের খুন-গুম-কূফর-জুলুম-হিংস্রতা-দ্বীনবিকৃতি আর স্বৈরদস্যুতার ইতিহাস এবং ইন্ডিয়া, ইসরাইল, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, আরাকান ইত্যাদি সহ দুনিয়ার সব জায়গায় তথাকথিত ধর্মরাষ্ট্রের প্রাদূর্ভাব ও বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদের নির্মম তান্ডবলীলা শুধু দেখছিনা চরমভাবে অসহায় শিকার হচ্ছি।
ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম ঘোষিত হলে ধর্ম ও রাষ্ট্র সবই ক্ষতিগ্রস্ত ও বিকৃত হয়, স্বাধীন ধর্ম-স্বাধীন জীবন-স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থা সবই হারিয়ে যায়, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মতবাদ ও স্বার্থই ধর্মের নামে চালিয়ে দেয়া হয় যার ফলে ধর্মের আসল আলো নিভে যায় এবং সবকিছু ধর্ম-জীবন-মানবতার বিরুদ্ধে অবিচার ও অসৎ স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়। ধর্মের মূল শিক্ষা মানবতা- অধিকার-অবাধ সত্য প্রবাহ রূদ্ধ হরণ করে যেখানেই একক ধর্মরাষ্ট্র বা একক মতবাদের স্বৈরদস্যুতার গোষ্ঠীরাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছে সেখানেই প্রকৃত ধর্ম ও মানবতা ধ্বংস হয়েছে। ধর্মের নামে উপমহাদেশের অন্যায় অমানবিক ক্ষতিকর বিভক্তি এবং বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্মের নামে অসৎ স্বার্থে ধর্মের নামের অপব্যবহার কেবল ধর্মের ছদ্মবেশী ধর্মবিনাশী শত্রুদেরকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার কূপরিণতিতে অন্যান্য বাতিল উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের সাথে ঈমান পরিপন্থী ওহাবী মতবাদ ভিত্তিক দ্বীন বিকৃতিকারী মেওয়াতি তবলিগী মতবাদ ইসলামের ছদ্মবেশে হাজার গুণ বৃদ্ধি হয়ে প্রকৃত ইসলাম বিলুপ্তির উপক্রম হয়েছে। ওহাবী-মওদুদী-সালাফি-লামজহাবি-তবলিগী ইত্যাদি ঈমান হানিকর দ্বীন বিকৃতিকারী মতবাদ ইসলামের নামে পরিচিত হওয়া প্রকৃত ইসলাম বিলুপ্তির নামান্তর। রাষ্ট্র ক্ষমতা যে মতবাদকে প্রশ্রয় দেয় তা ভূয়া বাতিল হলেও তার জ্ঞানগত প্রতিরোধ বা একাডেমিক বিশ্লেষণও তখন ধর্ম অবমাননা এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহীতা সাব্যস্ত করা হয়, ফলে কালক্রমে সত্য তথা প্রকৃত ধর্ম বিলোপ হয়ে অধর্মই ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় যা আমরা আল-আরব সহ সারা দুনিয়ায় দেখছি। অসৎ অন্যায় গোষ্ঠীস্বার্থে ধর্মের অবৈধ অপব্যবহার ও বিকৃতি বিণাশ থেকে প্রকৃত ধর্ম-জীবন-রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে ধর্ম ও রাষ্ট্রকে মুক্ত রাখতে হবে, জীবন-সত্য প্রবাহ-জ্ঞান প্রবাহের ধারা মুক্ত রাখতে হবে, রাষ্ট্র কেবল একক ধর্মের নামে নয় ভাষা-গোত্র-জাতীয়তা ইত্যাদি যে কোনো ভিত্তিতেই একক গোষ্ঠীবাদী স্বৈররাষ্ট্র করা হলে জীবন-ন্যায়-অধিকার-স্বাধীনতা-সত্য প্রবাহের মুক্তধারা ধ্বংস হয়। সত্য প্রবাহের মুক্ত ধারা রূদ্ধ হলে মানবাত্মা মরে যায় যা দৈহিক মৃত্যুর চেয়েও ক্ষতিকর।
একক ধর্ম-জাতি-গোত্র-শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতি-রাজনৈতিক দল-রাষ্ট্র ইসলামের প্রকৃতধারা আহলে সুন্নাতের পথ নয় বরং দ্বীন বিকৃতিকারী বাতিল জালিম খারেজি-সালাফি-শিয়া-ওহাবীর ধ্বংসাত্মক অপরাজনীতি এবং বিভিন্ন ধর্মের নামের অধর্ম উগ্রবাদী অপরাজনীতি ও জীবনের বিরুদ্ধে বস্তুবাদী মতবাদের অপরাজনীতি। ইসলামের রাজনৈতিক দিকদর্শন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার একমাত্র রূপরেখা দুনিয়ার সকল মানুষের নিরাপত্তা-কল্যাণ-স্বাধীনতা-বিকাশের সার্বজনীন মানবিক মুক্তব্যবস্থা ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক মানবতার রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা খেলাফাতে ইনসানিয়াত, কারণ মহান প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম রাহমাতাল্লিল আলামীন তথা সবার জন্য দয়া-ভালবাসা-অধিকার-নিরাপত্তা-কল্যাণ-বিকাশ-স্বাধীনতা-রুটিরুজি ও শান্তির উৎস এবং সত্য-ন্যায়-জ্ঞান প্রবাহের উৎস, ধর্মের রাষ্ট্রীয়করণ হলে অথবা মুক্ত ধর্ম নিষিদ্ধ হয়ে বিশেষ কোনো ফেরকা বা মতবাদ ভিত্তিক রাষ্ট্র ঘোষিত হলে রহমত ও সত্য প্রবাহের এ মুক্ত স্বাধীনধারা উৎখাত হয়, জীবন ও দ্বীন রূদ্ধ হয়ে যায়। রাষ্ট্র সব মানুষের তথা সার্বজনীন মানবিক না হয়ে কোনোভাবে একক ধর্ম-জাতি-গোত্র-ভাষা-বর্ণ ভিত্তিক তথা একক গোষ্ঠীবাদী হলে সেটা আর রাষ্ট্র থাকেনা, একক গোষ্ঠীর স্বৈর জমিদারি বা সামন্ত তালুকদারি তথা একক গোষ্ঠীর স্বৈরদস্যুতন্ত্র হয়ে যায়, রাষ্ট্র হতে হলে সব নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও কর্তৃত্ত্ব থাকতে হবে।
ইসলামের প্রকৃতধারা আহলে সুন্নাত তথা সুন্নী দাবী করে সুন্নী রাজনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা কিম্বা বিভিন্ন বাতিলের দূষিত অপরাজনীতি করা শুধু লজ্জাকর নয় ধ্বংসাত্মক। হক ও বাতেলের এবং মানবতা ও পাশবতার স্বার্থ ও লক্ষ্য এক নয়। বাতেল জালেম অপশক্তির পথ পদ্ধতি সত্য ও মানবতার উৎখাতের লক্ষ্যে এবং এজন্য তারা সবাই গোষ্ঠিবাদী প্রক্রিয়ার ধারক ফলে তারা কখনও ইসলামের নির্দেশিত সত্য ও জীবনের মুক্ত মানবতার রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াত মেনে নিতে পারে না। স্বাধীনতা অধিকার দিয়ে নয় হরণ করে সত্য ও জ্ঞান প্রবাহ রূদ্ধ করেই ওরা টিকে থাকে এবং এজন্য সত্য-জ্ঞান-স্বাধীনতা-অধিকারের উৎস ইসলামের পবিত্র নামের অপব্যবহার করে সবার ঈমানী আবেগ অনুভূতি বিভ্রান্ত করে সবাইকে এরা ধোকা দেয় এবং টিকে থাকে। ইসলামের নাম ছিনতাই করে ক্ষমতার জোরে নিজেদের বাতিল ফেরকা প্রতিষ্ঠার জন্য এসব সালাফি- খারেজি-শিয়া-ওহাবী ইত্যাদি ছদ্মবেশী অপশক্তিই তাদের স্বৈরদস্যুতার চরম হাতিয়ার হিসেবে ইসলামের আসল রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার একমাত্র রূপরেখা খেলাফতে ইনসানিয়াত উৎখাত করে ইসলামের ছদ্মনামে ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্মের কূপ্রথা চাপিয়ে দিয়েছে যার সমর্থন নয় প্রতিরোধ করতে হবে দ্বীনের আসলধারা তথা সত্যের মুক্ত প্রবাহ-মুক্ত জীবন ও মুক্ত দুনিয়া রক্ষার্থে। শুধু ইসলামের ছদ্মবেশী এসব বাতেল ফেরকা নয়, সত্য ও মানবতার শত্রু অন্যান্য ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদ ও বস্তুবাদী মতবাদ তাদের সবারই একই গোষ্ঠিবাদী রাজনীতি ও একক গোষ্ঠিবাদী রাষ্ট্রের ধারা যারা সংখ্যা বা অন্যায় ক্ষমতার বলে তাদের নিজেদের ছাড়া আর কারো বিশ্বাস-আদর্শ-জীবন-স্বাধীনতা-অধিকার-মালিকানা- অস্তিত্ত্ব এমনকি নাগরিকত্ত্বও স্বীকার করে না বরং উৎখাত করে।
দুনিয়ার কোন রাষ্ট্রই একক ধর্ম-একক জাতীয়তাবাদ-একক গোত্রবাদী- একক মতবাদ ভিত্তিক-একক গোষ্ঠীবাদী করা ধর্মের শিক্ষা বিরোধী এবং সত্য- ন্যায়-অধিকার-স্বাধীনতা-মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা, জীবনের উপলব্ধি ও মানবসত্ত্বার পূণরুজ্জীবনের মাধ্যমে যে কোনো নামধারী একক গোষ্ঠীবাদী রাজনীতি-রাজনৈতিক দল-রাষ্ট্রকাঠামো-বিশ্বকাঠামো উৎখাত করে ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক সার্বজনীন মানবতার রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার সাধনাই প্রকৃত ধর্ম তথা সত্য-ন্যায়-বিবেক-জ্ঞান-অধিকার-জীবন-মানবতা রক্ষা করা, আর একক গোষ্ঠীবাদী রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রব্যবস্থা ধর্মের প্রকৃতধারা ও মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্ম ঘোষিত হলে ধর্মের ছদ্মবেশী অধর্ম উগ্রবাদী সন্ত্রাসী বর্বর স্বৈরদস্যুচক্রই শক্তি পায়, বৈধতা পায় ও ভিত্তি পায়, ফলে ওসব হিংস্র অপশক্তি এগিয়ে যায়, যার পরিণতিতে ঈমান-দ্বীন-জ্ঞান-স্বাধীনতা-অধিকার- জীবনের বিকাশ-মানবতার ধারা ধ্বংস হয়ে যায়। একই ভাবে একক জাতি-গোত্র-ভাষা-বর্ণ-শ্রেণী ভিত্তিক গোষ্ঠিবাদী রাষ্ট্র ঘোষিত হলেও সত্য প্রবাহ-ন্যায়-জীবন-স্বাধীনতা রূদ্ধ ও উৎখাত হয়ে যায়। যারা গোষ্ঠিবাদী ধারায় আচ্ছন্ন হয়ে ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের পার্থক্য ও স্বাতন্ত্র্য উপলব্ধি শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং অন্য সবার জীবন অস্বীকার করে তারাই কেবল নিজের মতবাদ ভিত্তিক ও নিজের স্বার্থ ভিত্তিক একক গোষ্ঠিবাদী সমাজ ও রাষ্ট্র চাপিয়ে দিতে চায় এবং এজন্য কখনও ধর্মের নাম কখনও জাতীয়তাবাদ কখনও ভাষা আবার কখনও রাষ্ট্রকেই অপব্যবহার করে।
ঈমানদার হিসেবে দুনিয়াব্যাপী সমগ্র মিল্লাতকে নিয়ে চিন্তা ও হিসেব করতে হবে এবং মানুষ হিসেবে দুনিয়াব্যাপী সমগ্র মানবমন্ডলীকে নিয়ে চিন্তা ও হিসেব করতে হবে, ঈমান পরিপন্থী ও মানবতা পরিপন্থী বর্ডার গুলোর ভিত্তিতে নয়। দুনিয়ার সব স্থানে সব ধর্ম-জাতি-মত-পথের মানুষ বাস করে এবং সব স্থানেই সবাইকে মানুষ হিসেবে তার আত্মা ও জীবনের পূর্ণ অধিকার নিয়ে বাঁচার সুযোগ থাকতে হবে, একক গোষ্ঠিবাদী সমাজ ও রাষ্ট্র হলে সে সুযোগ ধ্বংস হয়ে যায়। সংখ্যার অযুহাতে একটা অঞ্চল বা রাষ্ট্রকে কোন একক ধর্ম-জাতীয়তা-গোত্র-ভাষা-শ্রেণী-বর্ণের একক গোষ্ঠিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলে যেখানে যার সংখ্যার জোর সে সেখানে তাই ঘোষণা করবে, ফলে সত্য প্রবাহ-জ্ঞান প্রবাহ-ন্যায়-স্বাধীনতা-মানবতা-অধিকার রূদ্ধ হবে। যার কাছে তার ধর্ম তার মতবাদ সত্য এবং অন্যটা অসত্য মনে হতে পারে, অতএব কেউ সংখ্যা বা রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে কোথাও নিজেরটা চাপিয়ে দিলে অর্থাৎ নিজের মতাদর্শ ভিত্তিক সমাজ রাষ্ট্র ঘোষণা করলে অন্যেরাও তার ধর্ম-জাতীয়তা- মতবাদ-দর্শন তথা তার সত্যের জন্য সেও অনূরূপ ঘোষণা দিবে এবং এতে প্রকৃত সত্যের উপলব্ধির স্বাধীন চর্চা ও মুক্ত পরিবেশ ধ্বংস হয়ে কেবল সংঘাত ও মিথ্যারই জয় হবে। সংখ্যার নামে এক জায়গায় একটা গোষ্ঠির একক নামে রাষ্ট্র দাবি করার সাথে সাথে অন্য জায়গায় বিপরীত গোষ্ঠির মালিকানা মেনে নেয়া হয় ও অন্য সবার মালিকানা অস্বীকৃতি হয়, আর এভাবে কূফর- র্শিক-জুলুমের ধারক অপশক্তিকে ও তাদের অবৈধ কর্তৃত্ত্ব অন্যায় আধিপত্য মেনে নিয়ে অফিসিয়ালী বৈধতা দেয়া হয় এবং জীবন ও জগতের উপরে তাওহীদ-রেসালাত ও ইনসানিয়াতের বিপরীত অপশক্তিকে কবুল করার মাধ্যমে ঈমানের পবিত্র কলেমা ও দ্বীনে হকের অঙ্গীকার ভংগ হয়।
স্বাভাবিক ভাবেই সত্য-ন্যায়-কল্যাণের উৎস মহান প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামের দেয়া দোজাহানে মুক্তির পথ ইসলামই দয়াময় আল্লাহতাআলার নিকট একমাত্র দ্বীন, কিন্তু দয়াময় আল্লাহতাআলা তা হৃদয়ের উপলব্ধি ও জ্ঞানের মুক্ত পরিবেশে বুঝে একাত্ম হওয়ার সুযোগ দিয়ে এবং ক্ষমতার জোরে তা বলপূর্বক চাপিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ করে সার্বজনীন মুক্ত মানবিক সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থার নির্দেশনা দান করেছেন,-“লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন”। এ মহান আয়াত মোবারকে প্রত্যেক মানুষকে তার দ্বীন তথা তার বিশ্বাস-আদর্শ-জ্ঞান-বিবেক-অধিকার নিয়ে স্বাধীনভাবে চলার ও রক্ষার সার্বজনীন মুক্ত মানবিক সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থার দিকদর্শন দেয়া হয়েছে। কেউ নিজের পথ মত কে বলপূর্বক চাপিয়ে দিয়ে একক গোষ্ঠিভিত্তিক সমাজ রাষ্ট্র ঘোষণা করে দিলে এ মহান আয়াত শরীফের অতি জরুরি দিকনির্দেশনা অমান্য হয়ে সত্যের অবাধ প্রবাহ ও জীবনের মুক্ত ধারা নস্যাৎ হয়ে ধ্বংসাত্মক মিথ্যা ও সংঘাতের স্বৈর সমাজ কায়েম হয়।
জীবন ও জগতের কোন দিকেই দয়াময় আল্লাহতাআলা ও তাঁন মহান হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামের প্রদত্ত এবং মহামহিম পবিত্র আহলে বায়েত, মহামান্য খোলফায়ে রাশেদীন, মকবুল সাহাবায়ে কেরাম, সত্যের ইমামবৃন্দ ও আওলিয়া কেরামের নির্দেশিত আসল ইসলাম ছাড়া মুক্তির আর কোন পথ নেই, কিন্তু প্রকৃত ইসলামের বিপরীতে ইসলামের নামেই অনেক ধ্বংসাত্মক এজিদবাদী কূফর-জুলুম-বিকৃতি চলছে। ইসলমের বিরূদ্ধে যত চক্রান্ত আছে তার মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট ও সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক চক্রান্ত হচ্ছে ইসলামের নামধারী চক্রান্ত। আর ইসলামের নামধারী চক্রান্তের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর বিণাশী চক্রান্ত হচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা ভিত্তিক চক্রান্ত। বেসরকারী বা ক্ষমতাহীন চক্রান্তের চেয়ে ইসলামের নামে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে ইসলামী রাষ্ট্রের নামে যে চক্রান্ত হয় তার চেয়ে ধ্বংসাত্মক চক্রান্ত আর কিছু নেই। প্রকৃত ও পূণাংগ ইসলামের ধারা প্রবাহ যেমন যেকোন মূল্যে জারি রাখতে হবে দ্বীনের নিজস্ব জ্ঞানময় স্বাধীন ধারায়, তেমনি ইসলামকে বিকৃত ও অপব্যবহার এবং বিশেষভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার মাধ্যমে রূদ্ধ, কুক্ষিগত ও ধ্বংস করে দেয়ার বিণাশী প্রক্রিয়া অবশ্যই রোধ করতে হবে, একই সাথে অন্য সকল গোষ্ঠিবাদী স্বৈর দস্যুচক্র থেকেও দ্বীন-জীবন-মানবতা-রাষ্ট্র-বিশ্ব রক্ষা করতে হবে, যার জন্য খেলাফতে ইনসানিয়াত তথা যে কোন নামের আড়ালে একক গোষ্ঠির অন্যায় কর্তৃত্ত্ব ও স্বৈরদস্যুতার আধিপত্যমুক্ত মুক্ত জীবন ও মুক্ত দুনিয়ার কোন বিকল্প নেই।
দ্বীন মিল্লাতের সুরক্ষায় ও অপশক্তির প্রতিরোধে আমাদের এ বিশ্লেষণ ও জরূরী সতর্কবাণী বাংলাদেশ বা কোথাও থেকে রাষ্ট্রধর্মের নাম উঠিয়ে দেয়ার দাবি নয়, কেবল ইসলামের প্রকৃতধারার চিরন্তন রূপরেখা এবং ইসলামের ছদ্মনামে বিকৃতি ও ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অতিঅপরিহার্য্য সচেতনতা তৈরির ঈমানী দায়িত্ত্ব। বাংলাদেশ বা কোন এক দেশ থেকে শুধু রাষ্ট্রধর্ম উঠিয়ে দিলেই ধর্মের নামে অধর্ম ও ধর্মের নামের অপব্যবহার প্রতারণা দূর হয়ে প্রকৃত ধর্মের মুক্তি এবং জীবন ও মানবতার মুক্তি আসবেনা, কারণ দ্বীন ও জীবন বিরোধী একক গোষ্ঠিবাদী স্বৈররাষ্ট্র শুধু এক ধর্মের ছদ্মনামে হয় না, দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধর্মের নামধারী অধর্ম উগ্রবাদের ধারায় হয়, একই সাথে বস্তুবাদের ধারায় জাতীয়তাবাদ-গোত্রবাদ-ভাষাবাদ-বর্ণবাদ ও আরও অনেকভাবে হয়, যেসব মতবাদ ভিত্তিক স্বৈরদস্যুতা থেকে মুক্ত না হলে সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহ এবং স্বাধীন দ্বীন-স্বাধীন জীবন-স্বাধীন মানবতার রাষ্ট্র-স্বাধীন দুনিয়া তৈরি হবে না, ঈমানের পবিত্র কলেমা প্রদত্ত জীবনের মালিকানা ও দুনিয়ার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে না, ফলে কোন না কোন নামে কূফর-জুলুম-ফেরাউনী স্বৈরদস্যুতাই কায়েম থাকবে এবং দ্বীন-মিল্লাত- মানবতা অবরূদ্ধ থেকেই যাবে।
দুনিয়ার সব রাষ্ট্র ও সংবিধানকেই সব মানুষের কল্যাণে ধর্মের মূল্যবোধ ভিত্তিক সার্বজনীন মানবিক করে তোলার বিপ্লবী লক্ষ্যে আমরা প্রকৃত ধর্ম ও মানবতার আপনদের আজ সকল প্রকার একক গোষ্ঠীবাদী স্বৈরদস্যুতার অপরাজনীতি ও গোষ্ঠীবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অমানবিক বিশ্বব্যবস্থার ফাঁস থেকে জীবন-ধর্ম ও মানবতার মুক্তির জন্য অবশ্যই সত্য ও মানবতার সঠিক পথে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধর্মরাষ্ট্র বা রাষ্ট্রধর্মের নামে দ্বীন ধ্বংসাত্মক খারেজি-সালাফি-শিয়া-ওহাবীর স্বৈরদস্যুতার অপরাজনীতি নয়, কিম্বা কোনো ধর্মের ছদ্মবেশী জীবন বিরোধী সন্ত্রাসী অধর্ম উগ্রবাদী অপরাজনীতি নয়, কিম্বা সত্য পরিপন্থী বস্তুবাদী মতবাদের মানবতা বিনাশী ফেরাউনী অপরাজনীতি নয়, অজ্ঞতা-সংকীর্ণতা-গোঁড়ামি নয়, আত্মঘাতী বিপরীত পথ নয়, কেবলমাত্র সবকিছুর উর্ধে সত্য-জ্ঞান-কল্যাণ-সকল গুণাবলী ও জীবনের সকল আলোকমালার উৎস মহান প্রিয়নবীর প্রাণাধিক প্রেম ও দ্বীন-মিল্লাত-মানবতার মুক্তির লক্ষ্য অন্য সবকিছুর উর্ধ্বে রেখে এগিয়ে চলার মধ্যেই মুক্তি, সাফল্য ও বিজয় যার অবিকল্প পথ বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব, যার উৎস ও গন্তব্য একমাত্র সত্যের পবিত্র কলেমা, যার সমগ্র চেতনা ও প্রাণপ্রবাহের মূল মহান শাহাদাতে করবালার আলোকময় নির্দেশণায় সত্য ও মানবতার মুক্ত জীবন ও মুক্ত দুনিয়া।
ইসলামের ছদ্মনামধারী বাতিল ফেরকা, নাস্তিক্যউদ্ভূত বস্তুবাদী মতবাদ ও বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদ এ তিন অপশক্তির সৃষ্ট সত্য পরিপন্থী- জীবন বিরোধী-মানবতা বিনাশী গোষ্ঠিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ও অন্যায় বিশ্ব কাঠামোর গ্রাস থেকে প্রকৃত ধর্মের স্বাধীন রূপরেখা ও মূল্যবোধ-সত্য ও জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহ-বিস্মৃত মানবসত্ত্বা-জীবনের হারানো স্বাধীনতা-অধিকার-গতি-বিকাশ পূনরূদ্ধারের একমাত্র উপায় সত্য ও জীবনের উপলব্ধির সাথে সাথে জীবনের বিরূদ্ধে এ তিন অপশক্তির অসৎ স্বার্থে তৈরি করা অন্যায় আধিপত্যের হাতিয়ার একক গোষ্ঠিবাদী অপরাষ্ট্রকাঠামো ও রূদ্ধ বিশ্বকাঠামো পরিবর্তন করে মুক্ত দ্বীন, মুক্ত জীবন ও সার্বজনীন মানবতার বিশ্ব বিপ্লব।
বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সার্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থার দিকদর্শন বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব এর আহ্বায়ক- আল্লামা ইমাম হায়াত এর অনুমোদনক্রমে-বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন , বাংলাদেশ
এর পক্ষে- আল্লামা আরেফ সারতাজ, অধ্যাপক আল্লামা ডঃ কাওছার আমীন, আল্লামা আবরার চিস্তি, আল্লামা মোর্শেদ শাহ, আল্লামা খাজা নাজমুদ্দিন, আল্লামা জাকির আহসান, আল্লামা রায়হান রাহবার, আল্লামা এমদাদ সায়ীফ, আল্লামা মফিজুর রহমান, আল্লামা হাফেজ ইলিয়াছ শাহ, আল্লামা শেখ নয়ীমুদ্দিন, আল্লামা আওয়াল কাদেরী।
প্রয়োজনে – ০১৬১২১২৮৮৮৪, ০১৮১৯৬৪২৪৯৮, ০১৮১৭৭২৪৬৪৬, ০১৭১৭৫৫০৬৬৭, ০১৯১৯৭১৪৬৬৫

প্রেস বিজ্ঞপ্তি/153cc4dcc6bcead1/টাইমস৭১বিডি ডেস্ক/ঢাকা

its news published by times71bd web portal in 31 march -2016 . 

ইসলাম পূর্ণাংগ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, রাষ্ট্রভিত্তিক বা রাষ্ট্রনির্ভর নয়, রাষ্ট্রের উর্ধ্বে স্বাধীন থাকবে – আল্লামা ইমাম হায়াত



This post has been seen 17856 times.
শেয়ার করুন

Recently Published

»

ইসলাম প্রতিমার বিরুদ্ধে, ভাস্কর্য ও মূর্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি দালীলিক পর্যালোচনা

নাজমুল মুহম্মদ ...

»

আহমাদিয়া মুসলিম জামাত নামধারী কুখ্যাত কাফের কাদীয়ানিয়াদের স্বরূপ উন্মোচন – ২য় খন্ড

সোনার বাংলাসহ গোটা ...

»

মেরাজুন্নাবী (সা) এর মূল দীক্ষাকে অস্বীকার করা প্রত্যক্ষভাবে শানে রেসালাতের অস্বীকৃতি

টাইমস৭১বিডি ডেস্ক, ঢাকা ...

»

উম্মেহানী এর পরিচয় ও নাস্তিকদের দাঁত ভাংগা জবাব

মাসুদ পারভেজ – ...

»

কিভাবে বাংলাদেশের জেলায় জেলায় বিদেশী অর্থায়নে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সমকামীতা

নিলয় হাসান বলছি –  জেনে ...

»

হেফাজতে ইসলামের চেতনার মূল গোড়ায় “ওহাবীবাদ রাজনীতি”

ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ...

»

কাদীয়ানিয়াত আহমাদিয়া মুসলিম জামাতের স্বরূপ উন্মোচনে ধারাবাহিক আলোচনা- ১ম পর্ব

ব্লগ ডট টাইমস৭১বিডি থেকে ...

»

“খোমেনীকে সমর্থন দেওয়া মানে শিয়াবাদকে সমর্থন দেওয়া”

‘টাইমস৭১বিডি ‘র ...

»

আমার প্রিয়নবীর পিতা মাতা নিষ্পাপ-মুমিন-ঈমানদার মুসলমান ছিলেন, জাহান্নামী নন

আমার প্রিয়নবীর  (সা) পিতা ...