banner

The New Stuff

519 Views

নূরে মুজাস্সাম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


নূরে মুজাস্সাম হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

হাম্দ ও ছানা পেশ করছি সে মহান স্রষ্টার উপর, যিনি তাঁর প্রিয় হাবীব নূরে মুজাস্সামকে সৃষ্টি করে এ অন্ধকারাচ্ছন্ন ধরণীকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। দুরুদ ও সালাম পেশ করছি, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, নূর নবী সাইয়্যেদিনা মুহাম্মদ স. এর উপর, যাঁর নূরের আলোকে সুন্দর এ বসুন্ধরা আলোকিত হয়েছে। শ্রদ্বাভরে স্মরণ করছি সে সকল সাহাবায়ে কেরামকে, যাঁরা নবীজীর সৃষ্টিগত উপাদানের ব্যাপারে নবীজীর নিকট প্রশ্œ করে প্রকৃত তথ্য সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং জগতবাসীকে তা অবগত করেছেন।

মহান আল্লাহ পাক প্রিয় নবীর ব্যাপারে কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করেছেন-قد جاءكم من الله نور (সূরা মায়িদা-১৫) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে আব্বাসে এসেছে – ” قد جاءكم من الله نور” يعني محمدا صلي الله عليه وسلم.
অর্থাৎ , আল্লাহ পাক এ আয়াতে নূর বলতে মুহাম্মদ (স) কে বুঝিয়েছেন।
এছাড়াও তাফসীরে কুরতুবী,রুহুল মায়ানী,ইবনে কাছিরসহ বহু তাফসীরের মধ্যে এ আয়াতে নূর দ্বারা আল্লাহ পাক মুহাম্মদ স. কেই বুঝিয়েছেন, এ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। আমাদের সমাজে এ নূরের ব্যাখ্যা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে দিয়ে থাকেন। তবে এর ব্যাখ্যা বিভিন্ন তাফসীরে বিভিন্ন রকম হলেও, প্রকৃতপক্ষে এ নূর দ্বারা মুহাম্মদ স. এর সৃষ্টিগত নূরকেই বুঝানো হয়েছে। যার প্রমাণ হাদিস শরীফে রয়েছে। আসুন আমরা সরাসরি হাদীস থেকেই তা জেনে নেই। *আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল খতীব আল কাস্তলানী তদীয় “ মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া” গ্রন্থে হাফিজুল হাদিস ইমাম আব্দুর রাজ্জাকের (রহ:) বর্ণনা সূত্রে উল্লেখ করেছেন- عَن جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ اَلْاَنْصَارِي قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ ، بِاَبِيْ اَنْتَ وَاُمِّيْ ، أخْبِرْنِيْ عَنْ اَوَّلِ شَيْئٍ خَلَقَهُ اللهُ تَعَالي قَبْلَ اَلْاَشْيَاءِ . قَالَ: يَا جَابِرُ، إنَّ اللهَ تَعَالي قَدْ خَلَقَ قَبْلَ اَلْاَشْيَاءِ نُوْرَ نَبِيِّكَ مِنْ نُوْرِهِ، فَجَعَلَ ذَالِكَ النُّوْرَ يَدُوْرُ بِالْقُدْرَةِ حُيْثُ شَاءَ اللهُ تَعَالي ، وَلَمْ يَكُنْ فِيْ ذَالِكَ الْوَقْتِ لَوْحٌ وَلاَقَلَمٌ، وَلاَجَنَّةٌ وَلاَ نَارٌ، وَلاَ مَلَكٌ وَلاَ سَمَاءٌ، وَلاَ اَرْضٌ وَلاَ شَمْسٌ وَلاَ قَمَرٌ، وَلاَ جِنِّيٌ وَلاَ اِنْسِيٌ، فَلَمّاَ اَرَادَ اللهُ تَعَالي اَنْ يَخْلُقَ الْخَلْقَ قَسَّمَ ذَالِكَ النُّوْرَ اَرْبَعَةَ اَجْزَاءٍ ، فَخَلَقَ مِنَ الجُّزْءِ الْاَوَّلِ اَلْقَلَمَ الخ
অর্থ: জলীলুল ক্বদর সাহাবী হযরত জাবের ইবনে আব্দিল্লাহ আল আনসারী রা: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,আমি রাসূল স. এর নিকট জানতে চেয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল স.! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক, আপনি আমাকে অবহিত করুন যে,সৃষ্টবস্তু সমূহের মধ্য হতে আল্লাহ তা‘য়ালা কোন বস্তুকে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন ? তিনি স. বললেন, হে জাবের! আল্লাহ তা‘য়ালা সমস্ত বস্তুর পূর্বে তাঁর (খলকী) নূর থেকে তোমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেছেন। তখন আল্লাহ তা‘য়ালার কুদরতে সেই নূর দিক-বিদিকে ছুটাছুটি করতে লাগল। আর ঐ সময়ে লৈাহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা, আকাশ, জমিন, চন্দ্র, সূর্য, জ্বিন ও ইনসান কিছুই ছিল না। অত:পর আল্লাহ তা‘য়ালা যখন সৃষ্টি জগতকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন তিনি ঐ নূরকে চারটি ভাগে বিভক্ত করলেন। এরপর তিনি প্রথম অংশ দ্বারা কলম সৃষ্টি করলেন। অত:পর…
নিন্ম বর্ণিত গ্রন্থসমূহে হাদিসখানা রয়েছে-
০১.“শরহু মাওয়াহিবুল্লাদুনিয়া” ১ম খন্ড-৮৯ পৃ. ০২.আস “সিরাতুল হালাবিয়্যাহ”১ম খন্ড- ৫০ পৃ. ০৩.“কাশফুল খিফা” ১ম খন্ড-৩১১ পৃ. ০৪.মাও:কারামত আলী জৈনপুরীর “নূরে মুহাম্মাদী” ৪৬ পৃ. ০৫.মাও: আশরাফ আলী থানভী “নশরুত্তীব” ৬ পৃ:
উল্লেখ্য যে, একদল ভাইগণ মনে করেন যে একমাত্র বুখারী শরীফ বা ছিহাহ ছিত্তাহ-ই দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অন্য হাদিসের কিতাব দলীল হতে পারে না। এটা তাদের অজ্ঞতা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ সিহাহ ছিত্তাহ ছাড়াও অসংখ্য হাদিসের কিতাব আছে, যেগুলো ছহীহ এবং দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তাই কোন বিষয়ের দলীলের জন্য শুধুমাত্র ছিহাহ ছিত্তাহ যথেষ্ট নয়। উপরে যে কিতাবগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এ কিতাবগুলো বিজ্ঞ ও সর্বজন স্বীকৃত আলেমদের লিখিত কিতাব। যা শরীয়তের দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। যাহোক, আমাদের কিছু ভাই, যারা একটি আয়াতকে দলীল হিসেবে পেশ করে রাসূল স. কে আমাদের মত সাধারণ মানুষ হিসেবে সাব্যস্ত করেন।

আয়াতটি হলো, মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, “(হে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদেও মত একজন মানুষ, তবে আমার প্রতি অহী নাযিল হয়।” (সূরা কাহাফ – ১১০) এ আয়াতে কারীমার প্রেক্ষিতেই তারা সাইয়্যেদুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যিন, হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমাদের মতই বলে থাকে। (নাউযুবিল্লাহ) প্রকৃতপক্ষে এটা সম্পূর্ণরূপে অশুদ্ধ ও ভুল। কারণ আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই , যার প্রতি অহী নাযিল হয়। বরং আমাদের মধ্যে কেউ যদি নিজের প্রতি অহী নাযিলের দাবী করে, তাহলে সে কাট্রা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। যেমন: কাদিয়ানি, বাহাই ইত্যাদি সম্প্রদায়। হাদীস শরীফ হতে এ বিষয়টি আরো স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয়। যেমন:- * হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল (স.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনুরূপ নই। (বুখারী ১/২৬৩ , আবু দাউদ ১৩৭)
* হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন , রাসূল (স.) ইরশাদ করেছেন , নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনুরূপ নই। (বুখারী ১/২৬৩ , ফতহুল বারী ৪/১৬৪) * হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন , রাসূল (স.) বলেছেন , “তোমাদের মধ্যে আমার অনুরূপ কে রয়েছে ? ” (বুখারী ১/২৬৩ , ফতহুল বারী ৪/১৬৭) অর্থাৎ , তোমাদের মধ্যে কেউই আমার মত নয় এবং আমিও তোমাদের কারো মত নই। মূলত , আয়াত শরীফের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা হলো , সাইয়্যেদুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যিন, হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র আদম সন্তান হিসেবে মেছালে বাশার বা মানুষের অনুরূপ। আর এ মেছাল বা সাদৃশ্য আকৃতিগত দিক থেকে । সৃষ্টিগত উপাদানের দিক থেকে নয়। যেমন: তাফসীরে কাবীরের ৪র্থ খন্ড ৫১৫ পৃষ্ঠায় এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,والمقصود انه لو كان من جنس الملائكة لصعب الامر بسببه علي الناس. অর্থাৎ , উক্ত আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো,যদি তিনি আকৃতিগতভাবে মানুষ না হয়ে ফেরেশতা হতেন, তাহলে শরীয়তের বিধানাবলী মানুষের উপর যথারীতি পালন করা কঠিন হয়ে পড়ত। আর নবীজী আকৃতিগত দিক থেকে আমাদের মত মানুষ বলেই যে তার সৃষ্টিগত উপদান আর আমাদের সৃষ্টিগত উপাদান এক হতে হবে,এটা কোন যৌক্তিক দাবী নয়।

যেমন: কোন ব্যক্তি জুয়েলার্সের দোকানে গিয়ে বলল, আমাকে একটি গলার হার দাও। এখন হার দু’ধরণের হয়ে থাকে। স্বর্ণের এবং রৌপ্যের। আর উভয়টিকেই হার বলা হয়। অথচ দু’টোর সৃষ্টিগত উপাদান ভিন্ন ভিন্ন। তাই দোকানদার বলল, ভাই! স্বর্ণের না রৌপ্যের? তখন ক্রেতা বলল , ভাই স্বর্ণেরটা দিন। সুতরাং এ বিষয়টি থেকেই স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে , আয়াতে নবীজীকে মানুষ বলাতে, তাঁর সৃষ্টিগত উপাদান আর আমাদের সৃষ্টিগত উপাদান যে এক তা প্রমাণিত হয় না। বরং নবীজী মানুষের আকৃতিতে পৃথিবীতে আসায় মানাব জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত, নবীজী মানুষের আকৃতিতে আসায় , আল্লাহ পাক মানুষকে আশরাফিয়াত বা সৃষ্টির সেরা বানিয়েছেন।

মোটকথা হলো, হাকীকতে নবীজী আমাদের মত নন। লক্ষ-কোটি দিক বা বিষয় রয়েছে , যার দ্বারা প্রতীয়মাণ হয় যে, আল্লাহ পাকের হাবীব, হুযুর (স.) আমাদের মত নন। বরং তিনি নূরে মুজাস্সাম বা নূরের সৃষ্টি। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিমুস্ সালাম পর্যন্ত যে সকল পুত:পবিত্র পুরুষ ও মহিলা আলাইহিমুস্ সালামগণের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন , তাদের সকলের মধ্যেই তিনি সরাসরি নূর আকারে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং সবশেষে মা আমিনা আলাইহাস্ সালাম এর রেহেম শরীফ হতে নূর হিসেবেই জমিনে তাশরীফ এনেছেন। সে কারণে তাঁর শরীর মুবারকের কোন ছায়া ছিল না। হুযুর পাক (স.) এর শরীর মুবারকে যা কিছু ছিল তা সবকিছুই পবিত্র থেকে পবিত্রতম। এমনকি তাঁর পেশাব মুবারকও পবিত্র ছিল। যা পান করার কারণে জাহান্নামী লোকের জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। তিনি হাযত পুরা করলে তাও মানুষ দেখতে পেত না, জমিন তা সাথে সাথেই গ্রাস করে ফেলত বা খেয়ে ফেলত। তাঁর শরীর মুবারকে মশা-মাছি বসত না। নবীজী ঘুমালে অযু নষ্ট হত না। কিন্তু আমরা ঘুমালে অযু নষ্ট হয়ে যায়। তাঁর রক্ত মুবারক পবিত্র ছিল। কিন্তু আমাদের রক্ত অপবিত্র। এমনিভাবে অসংখ্য, অগণিত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো কেবল রাসূল পাক (স.) এর জন্যই খাছ। কাজেই তিনি কোন দিক থেকেই আমাদের মত নন। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এ সঠিক বিষয়টি বুঝার তাওফীক দান করুন। আমীন।

মুফতী মোহাম্মাদ রাকিবুল ইসলাম ছালেহী

প্রিন্সিপাল,দারুল হাবীব জামেয়া ইসলামিয়া,যাত্রাবাড়ী,ঢাকা



This post has been seen 519 times.
শেয়ার করুন

Recently Published

»

ইসলাম প্রতিমার বিরুদ্ধে, ভাস্কর্য ও মূর্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি দালীলিক পর্যালোচনা

নাজমুল মুহম্মদ ...

»

আহমাদিয়া মুসলিম জামাত নামধারী কুখ্যাত কাফের কাদীয়ানিয়াদের স্বরূপ উন্মোচন – ২য় খন্ড

সোনার বাংলাসহ গোটা ...

»

মেরাজুন্নাবী (সা) এর মূল দীক্ষাকে অস্বীকার করা প্রত্যক্ষভাবে শানে রেসালাতের অস্বীকৃতি

টাইমস৭১বিডি ডেস্ক, ঢাকা ...

»

উম্মেহানী এর পরিচয় ও নাস্তিকদের দাঁত ভাংগা জবাব

মাসুদ পারভেজ – ...

»

কিভাবে বাংলাদেশের জেলায় জেলায় বিদেশী অর্থায়নে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সমকামীতা

নিলয় হাসান বলছি –  জেনে ...

»

হেফাজতে ইসলামের চেতনার মূল গোড়ায় “ওহাবীবাদ রাজনীতি”

ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ...

»

কাদীয়ানিয়াত আহমাদিয়া মুসলিম জামাতের স্বরূপ উন্মোচনে ধারাবাহিক আলোচনা- ১ম পর্ব

ব্লগ ডট টাইমস৭১বিডি থেকে ...

»

“খোমেনীকে সমর্থন দেওয়া মানে শিয়াবাদকে সমর্থন দেওয়া”

‘টাইমস৭১বিডি ‘র ...

»

আমার প্রিয়নবীর পিতা মাতা নিষ্পাপ-মুমিন-ঈমানদার মুসলমান ছিলেন, জাহান্নামী নন

আমার প্রিয়নবীর  (সা) পিতা ...

Shares
Loading...